ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
অর্থনীতি জাতীয়

এডিপি সংস্কারে কাটছাঁট: বাতিল ৯ প্রকল্প, একীভূত ৩২, বাদ ১৮৫ প্রস্তাব

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে ৯টি প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছে। একই সঙ্গে একই ধরনের ৩২টি চলমান প্রকল্পকে একীভূত করে ১৬টি সমন্বিত প্রকল্প করা হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে অনুমোদন না পাওয়া ১৮৫টি গ্রিন-পেজ প্রস্তাবও।

এডিপি সংস্কারে কাটছাঁট: বাতিল ৯ প্রকল্প, একীভূত ৩২, বাদ ১৮৫ প্রস্তাব

ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

বাতিল ৯ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৬১৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে ১৫৬ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের একটি কমিটির সুপারিশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বাতিল প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে তিতাস গ্যাস ও পেট্রোবাংলার তিনটি স্মার্ট প্রিপেইড গ্যাস মিটার প্রকল্প, পলিটেকনিক ও মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ প্রকল্প এবং ময়মনসিংহের শহীদ মো. সাইফুল পার্ক উন্নয়ন প্রকল্প।

গ্যাস খাতের তিন প্রকল্পের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। তিতাসের গ্রাহকদের জন্য স্মার্ট প্রিপেইড গ্যাস মিটার বসানোর "গ্যাস সেক্টর এফিশিয়েন্সি ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড কার্বন অ্যাবেটমেন্ট প্রকল্পে" বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি মাত্র শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২ হাজার ২১৪ কোটি টাকার "স্মার্ট মিটারিং এনার্জি এফিশিয়েন্সি ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের" অগ্রগতিও মাত্র ৬ শতাংশ। আর পিজিসিবিএল এলাকায় মিটার বসানোর ৬৮১ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০২৩ সালের শেষ দিকে শুরু হয়েও অগ্রগতি পৌঁছেছে মাত্র ৪ শতাংশে।

কোন প্রকল্পগুলো একীভূত হচ্ছে

বড় ধরনের একীভূতকরণ হচ্ছে সড়ক, রেল ও নৌপথ খাতে। কুমিল্লা অঞ্চলের দুটি সড়ক প্রকল্প, যার সম্মিলিত ব্যয় ২ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা, এক করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের নতুন জাহাজ কেনা ও ড্রেজিং প্রকল্পও একীভূত হচ্ছে, সম্মিলিত ব্যয় ৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং সংস্কারের দুটি প্রকল্পকে (ব্যয় ৩৩৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা) এক প্রকল্পে আনা হয়েছে।

একইভাবে ৩ হাজার ৮২১ কোটি টাকার দুটি রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প এবং সেনা ও বিমান বাহিনীর আবাসন ও প্রশিক্ষণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোও একীভূত করা হচ্ছে। একীভূত ১৬টি প্রকল্পের সম্মিলিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২৯ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এই পদক্ষেপকে সঠিক পথে এগোনোর মতোই বলেছেন। তবে তাঁর সতর্কবাণী, একীভূতকরণের ফলে বাস্তবায়নে দেরি হলে বা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হলে পুরো উদ্যোগ ব্যর্থ হবে। একজন প্রকল্প পরিচালকের কাঁধে অনেকগুলো কাজ চাপলে ব্যয় ও সময়, দুটোই বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরীর মতে, হাজারের বেশি প্রকল্পের এডিপি থেকে মাত্র ৯টি বাতিল করা যথেষ্ট নয়। তাঁর ভাষ্য, একীভূত করে অর্থ বাঁচানো ভালো, কিন্তু সাশ্রয়ের নামে অবকাঠামোর মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, একই এলাকায় ছোট ছোট অনেক প্রকল্প থাকায় প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ছিল, অথচ বাস্তবায়ন এগোচ্ছিল ধীরগতিতে। এই সংস্কারের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যয় কমবে, বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং অপচয় রোধ করা যাবে। বাতিল হওয়া বিদেশি ঋণনির্ভর প্রকল্পের অর্থ অগ্রাধিকারভিত্তিক জরুরি খাতে পুনর্বণ্টনের সুযোগও তৈরি হবে।