মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের খবর ঘিরে সৃষ্ট জল্পনা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতার ফেসবুক পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ছবি: ডেইলি ওয়াদা
হাসনাতের কটাক্ষ
এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি লেখেন, "বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টরা পড়েছেন বিপদে। গতকাল প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের কাজকে বাহবা দিয়ে লিখতে হলো, আবার আজকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে বাহবা দিয়ে লিখতে হলো। লিখতে না লিখতেই জানা গেলো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ভুয়া।"
হাসনাতের দাবি, এখন ওই কর্মীদের আবার লিখতে হবে, কেন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে না বলে ভালো করেছেন। তিনি আরও লেখেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইশরাক নিজের দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সেই সঙ্গীদের চিনে গেছেন, যারা তাঁর পদত্যাগে খুশি হয়েছেন ও উল্লাস করেছেন।
পার্থের পদত্যাগ দাবির পরামর্শ
পোস্টের শেষাংশে হাসনাত প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের প্রতি মন্ত্রী পার্থের পদত্যাগ দাবি করার পরামর্শ দেন। হাসনাতের ভাষায়, এই "মিডিয়া ক্যু"-এর পেছনে পার্থের কোনো ভূমিকা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।
সারজিসের প্রশংসা
অন্যদিকে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী সিদ্ধান্ত সাধুবাদ যোগ্য। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল এখান থেকে শিক্ষা নিবে সেই প্রত্যাশা করি।"
ঘটনার সূত্রপাত
এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী এক অভিযানে পিস্তল হাতে অংশ নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন ইশরাক হোসেন। রোববার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম সরকারের জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশ করে, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা সেই খবরকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
ইশরাক নিজেও সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক অডিও বার্তায় বিষয়টিকে "যাচাই না-হওয়া" হিসেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে গেন্ডারিয়ার ঘটনায় অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রোববার সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান জানান, ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা