English
ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ভারতে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি: পতাকা হাতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির প্রাণকেন্দ্রে হাজারো মানুষ জমায়েত হয়ে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে দেশের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে এটিই সাম্প্রতিক জনরোষের সবচেয়ে বড় প্রকাশ।

ভারতে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি: পতাকা হাতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন নয়াদিল্লির ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসে, তরুণদের "কাকরোচ" আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে। আন্দোলনের নেতা অভিজিৎ ডিপকেকে বিক্ষোভের আগেই পুলিশ আটক করে। বিভিন্ন প্রজন্মের বিক্ষোভকারীরা সমাবেশে যোগ দেন, যা জনগণের ব্যাপক ক্ষোভের প্রতিফলন।

ভোটার তালিকা সংশোধনই মূল ইস্যু

তরুণ ও বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ তীব্র হয়েছে ভোটার তালিকার চলমান পর্যালোচনাকে ঘিরে, যাতে গত বছর থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, আরও কোটি মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার হুমকি তৈরি করেছে এবং সংখ্যালঘুদের — বিশেষ করে মুসলমানদের — অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁরা নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও মোদির প্রশাসন অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, সংশোধনের উদ্দেশ্য দ্বৈত ও অযোগ্য নাম বাদ দেওয়া। শুক্রবারের বিক্ষোভ ছিল ক্রমবর্ধমান প্রচারণার অংশ, যা মোদির সরকারকে চাপে রেখেছে — এক সপ্তাহ আগেই নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন হয়েছিল।

নেতা আটক, বিক্ষোভ তবুও

বিক্ষোভের আগে পুলিশ জনগণকে সমাবেশে যোগ না দেওয়ার অনুরোধ জানায় এবং একটি ছোট দলকে জাতীয় পতাকা ওড়াতে ও জাতীয় সঙ্গীত গাইতে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। বিক্ষোভের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে শুক্র ও শনিবার কনট প্লেস ঘেরা সবুজ উদ্যান সেন্ট্রাল পার্কও বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, ডিপকে একটি বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তার দিকে যাচ্ছেন; পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আটকে সংক্ষিপ্ত বাকবিতণ্ডার পর গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ত্রিবর্ণ পতাকা (ভারতীয় পতাকা) ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়।"

"কাকরোচ" আন্দোলনের উত্থান

"কাকরোচ" আন্দোলন শুরু হয়েছিল এ বছর গ্রীষ্মে অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে — ভারতের প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণদের পরজীবীর সঙ্গে তুলনা করার পর। অনেক তরুণ ভারতীয় এই মন্তব্যকে গ্রহণ করে তেলাপোকাকে স্থিতিস্থাপকতার প্রতীকে পরিণত করে। পরে তা তরুণদের দেশব্যাপী প্রতিবাদ আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে জুলাইয়ে মোদির শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ হয় — ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিরল ধাক্কা।

বিক্ষোভগুলো বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে অনেক বিক্ষোভকারী এগুলোকে ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার বৃহত্তর সংগ্রামের অংশ হিসেবে দেখছেন। এক বিক্ষোভকারী নাশিদ খান বলেন, "ভারত ফ্যাসিবাদের দিকে নামছে — এটাই আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।" তবুও বিক্ষোভগুলো "ভারতের ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক" বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদা