নতুন দিল্লি, ১৬ অক্টোবর: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) 'জাতীয় পতাকা ওড়াও' কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে শহরের কেন্দ্রস্থল। শুক্রবারের কর্মসূচি ঘিরে মধ্য দিল্লিতে ৩২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে শুধু কনট প্লেস ও আশপাশের এলাকাতেই দায়িত্ব পালন করবেন ছয় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য।
শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা নিয়ে জমায়েতের ডাক দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বড় মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কনট প্লেসসহ আশপাশের এলাকায় জমায়েত ও মিছিলে নিষেধাজ্ঞাও জারি রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য — বাছাই করা কয়েকজনকে বিকল্প কোনো উপযুক্ত স্থানে প্রতীকী কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
কেন এই বিক্ষোভ
সিজেপির আন্দোলন মূলত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে। দলটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) প্রায় ২৬ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এর আগে ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ ঘিরে নয়াদিল্লি জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে যন্তর মন্তরে তালাবদ্ধ ফটক টপকে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পর পুলিশ আটক করে। বুধবার তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এই গ্রেপ্তারের পরই শুক্রবারের কর্মসূচির ঘোষণা দেন অভিজিৎ দিপক।
কে অংশ নিচ্ছে
সিজেপির ঘোষিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, আন্দোলনকর্মী এবং আম আদমি পার্টির (আপ) সদস্যদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আপ নেতা গোপাল রাই বলেছেন, পতাকা ওড়ানোর 'অপরাধে' দুই তরুণকে জেলে পাঠানোর প্রতিবাদে এই কর্মসূচি চলবে যতদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করেন।
পুলিশের ভাষ্য, জাতীয় পতাকাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় বিক্ষোভকারীদের আটক করা থেকে তারা বিরত ছিল। তবে কর্মসূচি ঘিরে সেন্ট্রাল পার্ক, রাজীব চক, যন্তর মন্তর ও পালিকা বাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতায়াতে ব্যাঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস