ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করল আজারবাইজান, দেশজুড়ে বিরল বিক্ষোভ, তুরস্কের সঙ্গে টানাপোড়েন

বাকু, ১৬ অক্টোবর: স্কুলের ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে এক কিশোরীর প্রশ্ন—'কেন আমাকে আমার ধর্ম ত্যাগ করতে হবে?' হিজাব পরার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকতে না পারার প্রতিবাদে তার এই কথার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আজারবাইজানে সরকারি স্কুলে নতুন পোশাকবিধি কার্যকর হওয়ার পর এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে বহু ছাত্রী। ক্ষোভের ঢেউ পৌঁছে গেছে রাজধানী বাকুসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করল আজারবাইজান, দেশজুড়ে বিরল বিক্ষোভ, তুরস্কের সঙ্গে টানাপোড়েন

নতুন বিধি, বিরল বিক্ষোভ

গত সোমবার থেকে সরকারি স্কুলে নতুন পোশাকবিধি চালু হলে হিজাব পরা ছাত্রীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে স্কুলের ফটকে দাঁড়িয়ে ওই কিশোরী প্রশ্ন তোলে, কেন তাকে ধর্মীয় পরিচয় ত্যাগ করতে হবে। আরেকটি ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের হাতে ধরা ব্যানারে লেখা দেখা যায়—'হিজাব কারো শিক্ষা অর্জনে বাধা নয়।'

বাকুসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের মধ্যে সোমবার ৩৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তারা বিধি বাস্তবায়নে বাধা দিয়েছে এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেছে। নতুন বিধিতে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পোশাক নিষিদ্ধ করা হলেও হিজাবের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। পরে শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

হিজাবের কারণে স্কুলে যেতে না পারা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া এক কর্মীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তার বন্ধুরা। তাকে আটক করা হয়েছে বলে তাদের আশঙ্কা থাকলেও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। এদিকে বিক্ষোভ শুরুর পর ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক ব্যবহারে সমস্যার অভিযোগ করেছেন দেশটির কিছু ব্যবহারকারী।

সরকার ও বিক্ষোভকারীদের অবস্থান

সরকারের যুক্তি, শিশুদের ধর্মীয় পোশাকের সিদ্ধান্তে পরিবারের প্রভাব থাকতে পারে। সংসদ সদস্য নিগার আরপাদরাইয়ের মতে, ধর্ম বেছে নেওয়ার সচেতন অধিকার প্রাপ্তবয়স্কদের। তবে বিক্ষোভকারীদের কাছে বিষয়টি ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি শিক্ষা গ্রহণের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ আজারবাইজানে প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সরকার দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রীয় নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে।

তুরস্কের সঙ্গে টানাপোড়েন

এই বিতর্ক এবার তুরস্কের সঙ্গেও মতবিরোধ তৈরি করেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রধান উপদেষ্টা ওকতাই সারাল হিজাববিষয়ক বিধিনিষেধকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে তুরস্কের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও সরব হয়েছেন। আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কূটনৈতিক মিশনের সামনে বিক্ষোভও হয়েছে।

এই বিরোধের পেছনে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক হিসাবও থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তুরস্কের কিছু বিক্ষোভকারী হিজাবের বিধিনিষেধের সঙ্গে আজারবাইজানের ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের যোগসূত্র টেনেছেন। ইসরায়েল আজারবাইজানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে এবং দেশটি থেকে তেল আমদানি করে। গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি হলেও আজারবাইজান উভয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।