ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: রাজধানীর উত্তরায় পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজলক্ষ্মী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ হয়। আহতদের মধ্যে পুলিশের ১৮ থেকে ২০ জন সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ টানা পঞ্চম দিনে এই সহিংসতায় রূপ নেয়।
যেভাবে সংঘর্ষ শুরু
শনিবার সকাল ১০টার দিকে উত্তরা এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেন। কসাইবাড়ি, জামতলা ও আজমপুর রেলগেট এবং জসীমউদ্দীনের হলি ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন তারা। বেলা ১১টার দিকে তারা উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের রাজলক্ষ্মীর কাছে ১৩ নম্বর সড়কে জমায়েত হন এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশ অবরোধের চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানায়, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা প্রথমে শ্রমিকদের রাস্তা ছেড়ে যেতে অনুরোধ করে। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন শ্রমিকরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুঁড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর পুলিশ লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের দুটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, সংঘর্ষে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের একজন কনস্টেবলের হাত ভেঙে গেছে। গুরুতর আহত এক পুলিশ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে মামলা করা হবে।
শ্রমিকদের দাবি
শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা মহাসড়ক অবরোধের আগেই পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের দাবি, পুলিশ গরম পানি, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে; এতে ৩০ থেকে ৩৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন। শ্রমিকরা বলছেন, বাসা ভাড়া, যাতায়াত খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বকেয়া বেতন পরিশোধ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত ১২ অক্টোবর থেকে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করে আসছিলেন শ্রমিকরা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। প্রায় চার হাজার নিবন্ধিত কারখানায় ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করেন; ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।