চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) মাসব্যাপী অচলাবস্থা কাটাতে অবশেষে হস্তক্ষেপ করল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংকট নিরসনে তদন্ত অথবা পরামর্শক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে সই করেন বিভাগের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ। তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যা থাকছে কমিটিতে
ইউজিসির সদস্য পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। কমিটির কাজ একটাই, চুয়েটে চলমান সংকটের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান করে সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালাসহ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া।
এক মাসের অস্থিরতা
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি ক্যাম্পাসের বড় অংশ।
পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও, কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচিতে। ফলে এক মাস ধরে কার্যত বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষাসহ প্রায় সব একাডেমিক কার্যক্রম।
উপাচার্য ভবনে তালা, ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ
টানটান এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১২ অক্টোবর সকালে ক্যাম্পাসে ঢোকেন নতুন উপাচার্য। ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে ঢুকেছিলেন তিনি।
খবর পেয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভবনের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় ছাড়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। এরপর ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন তাঁরা। উপাচার্যসহ ভেতরে আটকে পড়েন ১১ জন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
এরপর উপাচার্যকে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার ছাড়া পেয়ে শুক্রবার নগরের সার্কিট হাউসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ডাকেন তিনি। এখন কমিটির তদন্ত ও সুপারিশের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো ক্যাম্পাস।