যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলে তাতে লড়তে প্রস্তুত ভলোদিমির জেলেনস্কি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির “মিট দ্য প্রেস” অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ চলাকালে ভোট হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাই হবে তার দায়িত্ব। “আমি যুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার দেশকে রক্ষা করব,” বলেন তিনি।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
নির্বাচন আয়োজন নিয়ে শর্তও জুড়ে দিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ভোট আয়োজন করতে হলে রাশিয়াকে অন্তত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে হবে। ইউক্রেনের আইনে শত্রুতার অবসানের পর অন্তত ছয় মাস সময় নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। তার কথায়, “এটা শুধু আইনের বিষয় নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থারও বিষয়।” যুদ্ধবিরতি পেলে আইন সংশোধন ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির জন্য ৬০ দিনের মধ্যে সব করবে কিয়েভ, এমনটাই জানান তিনি। একই সঙ্গে সেনাদের ভোটাধিকারের বিষয়টিও তুলে ধরেন জেলেনস্কি, “তারা তো আমাদের দেশকে রক্ষা করছেন।”
নির্বাচন চান না, এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের নেতৃত্ব কে দেবেন সেই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের জনগণের। নির্বাচনের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কথাও স্বীকার করেন তিনি; যদি ওয়াশিংটন ভোট চায়, তাহলে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি লাগবেই। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। নির্বাচনের এই বিতর্ক এমন সময়ে ফিরে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলছেন ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার।
একই সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এক দফায় তিন দিন ইউক্রেনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি স্থগিত রেখেছিল। এ কারণে ওই সময় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা পায়নি কিয়েভ। ইউরোপীয় সরকারগুলোর তথ্য পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থার বিকল্প সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। ২০১৯ সালে সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় ইউক্রেনে; ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর সামরিক আইন জারি থাকায় সেখানে নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ।
সূত্র: এনবিসি নিউজ