ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সামরিক সমন্বয়ের মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে লেবানন। ফ্লোরিডার টাম্পায় মঙ্গলবার দুই দেশের সামরিক প্রতিনিধিদলের বৈঠক ফের শুরুর আগে লেবাননি কর্মকর্তারা এই অবস্থান জানালেন।
ছবি: এএফপি
বৈঠকে লেবাননের অবস্থান
দ্য ন্যাশনালের খবরে বলা হয়, লেবাননি সেনাদের ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করার প্রস্তাব বারবার এলেও বৈরুত তাতে সায় দিচ্ছে না। আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক লেবাননি রাজনৈতিক কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি বারবার উঠছে, কিন্তু আমরা সবসময় বলি, না, আমরা এটা করব না।”
তার ভাষায়, ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনায় মার্কিন মধ্যস্থতা থাকতেই হবে: “সেখানে ইসরায়েলি ও লেবাননিরা থাকবে, মাঝখানে থাকবে আমেরিকানরা। এটাই, এভাবেই থাকবে। যাচাইয়ের জন্য তৃতীয় পক্ষ থাকা উচিত, এটাই আমাদের সবসময়ের অবস্থান।”
পাইলট জোনে অচলাবস্থা
আলোচনার লক্ষ্য দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার। ইসরায়েলের শর্ত হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। প্রস্তাবিত যাচাই ব্যবস্থা “পাইলট জোন” তদারকি করবে, যেখানে হিজবুল্লাহ অস্ত্র ছাড়বে, ইসরায়েলি বাহিনী সরে যাবে এবং লেবাননি সশস্ত্র বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেবে।
কিন্তু জুলাইয়ে প্রথম পাইলট জোন প্রতিষ্ঠার পর থেকে অগ্রগতি থমকে আছে। সব পক্ষের সম্মতি যাচাইয়ের কোনো সম্মত ব্যবস্থা নেই, আর সমালোচকরা বলছেন প্রাথমিক জোনগুলোতে শুরু থেকেই ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি ছিল না। প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে লেবাননি সেনাবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল।
হামলা অব্যাহত
কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা চলছে। লেবাননের সরকারি জাতীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে আনাদোলু জানায়, সোমবার নাবাতিয়ে, বিনত জবাইল, মারজায়ুন ও তায়ার জেলার ছয়টি এলাকায় বিমান হামলা, ড্রোন ও কামানের গোলা এবং দুটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। যুদ্ধবিমান ওয়াদি আল-হুজাইরে আঘাত হানে, মায়ফাদুনে একটি ভবনের ছাদে ড্রোন থেকে গোলা ছোড়া হয়। হতাহতের তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি।
২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সই হওয়া কাঠামো চুক্তিতে ইসরায়েলের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার, লেবাননি সেনা মোতায়েন ও হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের কথা থাকলেও হামলা থামেনি।
সূত্র: দ্য ন্যাশনাল