ঢাকা, ১৭ অক্টোবর: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যার ২৪ ঘণ্টা পর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় এ মামলা করেন।
মামলা দায়ের শেষে আনন্দিতা সাংমা বলেন, তিনি সুষ্ঠু বিচার চান; স্বামীকে যারা এভাবে হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসির দাবি জানান তিনি। দুটি ছোট সন্তান নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
যেভাবে হত্যাকাণ্ড
বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গাপুরের বিরিশিরির তেলুঞ্জিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ি এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন আলিফ ফকির। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কে ছিলেন আলিফ ফকির
নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি 'ডিটেকটিভ আর্টিকেল' নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি, যেখানে স্থানীয় অপরাধ, অনিয়ম ও মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।
এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন।
তদন্ত চলছে
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় এবং হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। ঘটনার খবর পেয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের সহিংসতা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
