ওয়াশিংটন, ১৭ অক্টোবর: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘হিলারি রডহাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন নিজে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্টন হলে জমকালো অনুষ্ঠানে পুরস্কারটি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূতসহ প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পুরো হল দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ করতালি দিয়ে তাকে সম্মান জানায়।
কেন এই পুরস্কার
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি নারীর অধিকার এগিয়ে নেওয়া এবং বিশ্বকে আরও শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে অসাধারণ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেয়। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে পাঁচ দশকের কাজের জন্য ড. ইউনূসকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে হিলারি ক্লিনটন বলেন, তিনি নিজে গ্রামীণ ব্যাংকের কাজ দেখেছেন—কীভাবে নারীরা স্বাবলম্বী হয়েছেন, নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছেন। তার ভাষায়, এই কাজ শুধু বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, ড. ইউনূস তা ছড়িয়ে দিয়েছেন সারা বিশ্বে।
ইউনূসের বক্তব্য
পুরস্কার গ্রহণ করে ড. ইউনূস বলেন, “এটি আমাদের ৫০ বছরের কাজের স্বীকৃতি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, জর্জটাউনের এই আয়োজন বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের অনুপ্রাণিত করবে।
তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাকরিপ্রার্থী নই; আমরা চাকরিদাতা।” চলতি বছরের শেষ নাগাদ গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় চালুর আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
আরও যারা পেলেন
এ বছর ড. ইউনূসসহ মোট চারজন এই সম্মাননা পেয়েছেন। অন্যরা হলেন—ভারতের সেবা (সেভা) সংস্থার পরিচালক রিমা নানাভাতি, ফ্যাশন ডিজাইনার ও টোরি বার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ এবং জর্ডানের মাইক্রোফান্ড ফর উইমেনের বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান। মুনা সুখতিয়ান পেয়েছেন প্রথমবারের ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’।