ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
আইন আন্তর্জাতিক

বুরকিনা ফাসোয় ফিরল মৃত্যুদণ্ড, সর্বসম্মত ভোটে পাস নতুন দণ্ডবিধি

বুরকিনা ফাসোয় ফিরল মৃত্যুদণ্ড, সর্বসম্মত ভোটে পাস নতুন দণ্ডবিধি

ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

বুরকিনা ফাসোর পার্লামেন্ট মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে এনেছে। মঙ্গলবার সংশোধিত দণ্ডবিধি গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশটি প্রায় এক দশক পর আবার এই সাজা চালু করল। বিচার মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ৭১ সদস্যের পরিষদ সর্বসম্মতভাবে বিলটি পাস করেছে। বিচারমন্ত্রী এদাসো রদ্রিগ বায়ালা সরকারের পক্ষে বিলটি উপস্থাপন করেন।

নতুন আইনে সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির ফলে মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। ২০১৮ সালে দেশটি মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করেছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে সর্বশেষ বিচারিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৮৮ সালে।

সরকার এই পদক্ষেপকে সশস্ত্র বিদ্রোহ মোকাবিলার অংশ হিসেবে দেখাচ্ছে। কয়েক বছর ধরে আল কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। বায়ালার যুক্তি, আগের দণ্ডবিধির তুলনামূলক নমনীয়তা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সদস্য সংগ্রহে সাহায্য করছিল।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য ভিন্নভাবে দেখছে। মন্ত্রিসভা গত বছর বিলটি প্রথম অনুমোদন করার সময় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছিল, মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনা দমনপীড়ন আরও গভীর করতে পারে, ভয়ের আবহ তৈরি করতে পারে এবং সামরিক সরকারের সমালোচকদের প্রতি কঠোর বার্তা দিতে পারে। সরকারের যুক্তি নিরাপত্তা, সমালোচকদের যুক্তি স্বাধীনতা। এই দুই যুক্তির টানাপোড়েনের মধ্যেই আইনটি পাস হলো।

সরকারের এই কঠোর অবস্থান নতুন নয়। মন্ত্রিসভা গত বছরই বিলটি অনুমোদন করেছিল, আর তখনই মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা, নিরাপত্তার নামে এমন আইন শেষ পর্যন্ত ভিন্নমতের কণ্ঠ চাপা দিতে ব্যবহার হতে পারে।

বুরকিনা ফাসোর সিদ্ধান্ত আফ্রিকায় মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিতর্ক আবার সামনে আনল। অনেক দেশ এই সাজা তুলে দিয়েছে, আবার কিছু দেশ নিরাপত্তার যুক্তিতে তা ধরে রেখেছে। বুরকিনা ফাসো এখন দ্বিতীয় দলে যোগ দিল, এমন এক সময়ে যখন দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থির। প্রশ্ন এখন, নতুন সাজা আসলেই বিদ্রোহ দমনে কাজ করবে কিনা, নাকি তা নাগরিক স্বাধীনতার ওপর আরও চাপ তৈরি করবে।

সূত্র: রয়টার্স