সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক—রাষ্ট্রায়ত্ত এই তিন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলে সরকারি সম্মতি মিলেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সোমবার পৃথক পত্রে তিন ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
ছবি: ডেইলি ওয়াদা
যাদের নিয়োগ বাতিলের সম্মতি দেওয়া হয়েছে তারা হলেন—সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. শওকত আলী খান, রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম এবং জনতা ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. মজিবুর রহমান। পত্রে স্বাক্ষর করেছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা।
তিনজন কে, কখন নিয়োগ পেয়েছিলেন
শওকত আলী খান ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিন বছরের মেয়াদে সোনালী ব্যাংকের এমডি হন; এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ওয়াহিদুল ইসলাম রূপালী ব্যাংকের দায়িত্ব নেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। মজিবুর রহমান জনতা ব্যাংকের এমডি হন একই বছরের নভেম্বরে। তিনজনই ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
পত্রে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে ব্যাংক কোম্পানি আইন ও নিয়োগ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কারণ হিসেবে কিছু উল্লেখ করা হয়নি; শুধু নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও বেসিক ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ বাতিল করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডির পদ শূন্য হলো। সূত্রগুলো বলছে, খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি ও সুশাসনের চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যাংক খাতের সংস্কার ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার নির্দেশনা রয়েছে।