ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক রাজনীতি

ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে যাবে না, মুনিরকে জানাল ইরান

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ইরান জানিয়ে দিয়েছে, দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বাইরে যেতে দেওয়া হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আলোচনা শুরু হবে না। মঙ্গলবার তেহরানে মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে এই অবস্থান জানান ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি।

তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

ছবি: এএফপি

রেজায়ির ভাষ্য, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানি জনগণের বড় সম্পদ ও জাতীয় সম্পদ। তার কথায়, এই উপাদানের সামান্যতম অংশও ইরান ছাড়বে না, এটি দেশের ভেতরেই ব্যবহারের জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন আস্থা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু না করা পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না, আর সেই প্রক্রিয়া শুরু হতে হবে ইরানের শর্ত পূরণের মধ্য দিয়ে।

ইরানের আশঙ্কা, আলোচনায় ফিরলেই যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালাতে পারে। রেজায়ি বলেন, ইরানি জাতি এখন আমেরিকাকে বিশ্বাস করে না। তাদের ধারণা, আলোচনায় গেলেই তারা আবার আক্রমণ করবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও একই বার্তা দেন। তার ভাষ্য, নতুন করে বলার কিছু নেই, যুক্তরাষ্ট্র সাতটি শর্ত পূরণ না করলে ইরানের আস্থা ফিরবে না এবং হুমকি তেহরানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না।

মধ্যস্থতার চেষ্টায় মুনির

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিকে সঙ্গে নিয়ে মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, আমেরিকানদের প্রথমে হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা সরাতে হবে, তারপরই সংলাপ সম্ভব। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতার নতুন চেষ্টার অংশ হিসেবে মুনির তেহরানে গেছেন। জুনের পর থেকে এটি তার পঞ্চম ইরান সফর।

ইরানের দাবির মধ্যে আছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতি, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ছাড় এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তোলা। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে এবং অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে। তেহরান অবশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হয়, যখন দুই পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ছিল। জুনে একটি সমঝোতা স্মারক হলেও হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধে তা অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে যায়। এরপর থেকে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় আছে।

সূত্র: এএফপি