ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
জাতীয় মব ভায়োলেন্স

মব ভায়োলেন্সে ঘটনা ৪১% কমেছে, তবু থামছে না প্রাণহানি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সরকারের হিসাবে মব ভায়োলেন্স কমেছে। কিন্তু প্রাণহানির খবর থামেনি।

মব ভায়োলেন্সে ঘটনা ৪১% কমেছে, তবু থামছে না প্রাণহানি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক তুলনামূলক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে মব-সংশ্লিষ্ট ঘটনা, মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা সবই কমেছে। বিশ্লেষণটি প্রকাশ করা হয় মঙ্গলবার।

সরকারি হিসাব বলছে, ২০২৬ সালে মব-সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছে ৬৩টি। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০৭। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঘটনা কমেছে ৪১ দশমিক ১২ শতাংশ। নিহতের সংখ্যা ৬৩ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৪০-এ, আর আহত কমেছে ৮২ থেকে ৬৫-তে।

তবে এই পরিসংখ্যানে একটা বড় প্রশ্ন থেকে গেছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেনি, এই তুলনা পুরো বছরের নাকি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার। ফলে সংখ্যাগুলো কতটা তুলনীয়, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেল।

সরকারি দাবির একদিন আগেই অবশ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটির জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনিটরিং রিপোর্ট বলছে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সারাদেশে ৩৯৮টি মব ভায়োলেন্স ও গণপিটুনির ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৮৭ জন।

একই রিপোর্টে রাজনৈতিক সহিংসতার ভয়াবহ চিত্রও উঠে এসেছে। নয় মাসে ১,০১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৩ জন, আহত হয়েছেন ৬,৪৭৩ জন। এছাড়া কারাগারে ৯৫ জনের মৃত্যু এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে বা নির্যাতনে ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি।

১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সংস্থার নিজস্ব সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এইচআরএসএস। গত বছর সংস্থাটির নথিতে ছিল ২৯২টি মব ভায়োলেন্সের ঘটনা, যেখানে নিহত ১৬৮ জন ও আহত ২৪৮ জন।

সরকার কী বলছে

গত ২৮ এপ্রিল সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, মব ভায়োলেন্স ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সরকার একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে আছে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, ভিডিও ফুটেজ ও আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা, পুলিশি টহল জোরদার, কমিউনিটি পুলিশিং এবং গুজব ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নজরদারি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রতিটি থানায় মব ভায়োলেন্স ঠেকাতে বিশেষ স্কোয়াড গঠনের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। সরকারি বিশ্লেষণে এই পদক্ষেপগুলো সরাসরি ফল দিয়েছে কি না, সে প্রশ্নের অবশ্য স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

তবু বাস্তবতা হলো, সন্দেহ বা ভুয়া অভিযোগের জেরে এখনো মানুষ পিটিয়ে হত্যার শিকার হচ্ছে। অভিযোগ যাই হোক, বিচারবহির্ভূত মারধর বা হত্যার কোনো ন্যায্যতা নেই। সময়মতো পুলিশি হস্তক্ষেপ, বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত আর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, এটাই এখন আসল চ্যালেঞ্জ।