পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, আগামী মাসেই এমন বৈঠক হওয়া সম্ভব।
ছবি: রয়টার্স
"পারমাণবিক অস্ত্র ও পারমাণবিকীকরণ-হ্রাস নিয়ে কথা বলতেই আমরা এমন বৈঠক করব", বলেন ট্রাম্প। "প্রেসিডেন্ট শি চাইলে আমিও চাইব। বাণিজ্যের মতো অন্য বিষয়ও যে আলোচনায় আসবে, তাতে সন্দেহ নেই।"
আগামী মাসে এপেকের ফাঁকে বৈঠকের সম্ভাবনা
নভেম্বরের ১৮ ও ১৯ তারিখ চীনে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) শীর্ষ সম্মেলন বসছে। রয়টার্সের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই সম্মেলনের ফাঁকেই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি হতে পারে। সূত্রের দাবি, হোয়াইট হাউস কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন একটি বৈঠকের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
তিন নেতা আগে আলাদাভাবে দেখা করলেও কখনো একসঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেননি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের মালিক এই তিন দেশ। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে রাশিয়ার, তারপর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০১০ সালে সই হওয়া ওই চুক্তি একবার পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল।
চীনের আপত্তি, মিত্রদের উদ্বেগ
বেইজিং আগেই এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় যোগ দেওয়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে বলেছে, তাদের পারমাণবিক শক্তি কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমতুল্য নয়। বর্তমান পর্যায়ে চীনকে এমন আলোচনায় যোগ দিতে বলা "ন্যায্য, যুক্তিসংগত বা বাস্তবসম্মত" হবে না।
বৈঠকটি হলে তা ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও উদ্বিগ্ন করবে। আশঙ্কা, তিন দেশের গোপন সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের জোটব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
সোমবার ইউক্রেন প্রশ্নেও ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন। তাঁর ভাষায়, "ইউক্রেনের ব্যাপারে সত্যি বলতে রাশিয়া ঠিকঠাকই আচরণ করেছে।" জেলেনস্কিকে নিয়েও তিনি বলেন, "পরিস্থিতির খুব একটা উপকার করছেন না জেলেনস্কি" এবং "ইউক্রেনের পক্ষে আলোচনা করার সময় এসেছে অন্য কারো।" ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সূত্র: রয়টার্স