ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫

এডেন, ১৬ অক্টোবর: ইয়েমেনের এডেন শহরে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে অক্ষত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শায়েয়া জিন্দানি ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা। সৌদি-সমর্থিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই হামলা ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫

হতাহতের বিষয়ে সরকারি বক্তব্য

এডেনের আল-মাশিক প্রাসাদে হামলার পর নিরাপত্তাকর্মী ও বেসামরিক কর্মীদের হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ। ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি জানিয়েছেন, হামলায় পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও প্রাসাদ এলাকায় হামলার তাৎপর্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হুথিদের দাবি, সরকারের জবাব

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, এডেনে সৌদি বাহিনীর সামরিক অভিযান পরিচালনার সদর দপ্তরই ছিল তাদের লক্ষ্য। হুথি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই স্থাপনায় সৌদি কর্মকর্তাদের পরিচালিত সামরিক কেন্দ্রের পাশাপাশি অস্ত্রের মজুতও ছিল। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি। হামলার পর সরকারবিরোধী হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী।

সম্প্রসারিত সংঘাতের প্রেক্ষাপট

সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত গত কয়েক সপ্তাহে আরও বিস্তৃত হয়েছে। জোটের দাবি, চলতি মাসে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অন্তত ২০ বার হুথিদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। এসব হামলায় সৌদি আরবে হতাহত ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবরও দিয়েছে জোট। তবে হুথিদের হামলার দায় ও ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করলে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর তুলনামূলক স্থিতিশীলতা থাকলেও চলতি বছর নতুন করে সংঘর্ষ বেড়েছে। সর্বশেষ হামলার পর পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।