ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে একযোগে উত্তাল ইউরোপের রাজপথ

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়, শিক্ষা খাতে সংকট, কম মজুরি ও আবাসন সমস্যার প্রতিবাদে ইউরোপের একাধিক দেশে একসঙ্গে রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। শনিবার বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ইতালি ও পর্তুগালে আলাদা ও পূর্বপরিকল্পনাহীন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে; আলবেনিয়াতেও টানা পঞ্চম দিনের মতো সংঘর্ষ হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে একযোগে উত্তাল ইউরোপের রাজপথ

সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে ফ্রান্সে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশজুড়ে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে শ্রমিক ও বিভিন্ন প্রতিবাদী গোষ্ঠী যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানিয়েছেন, ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৫০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

প্যারিসে দোকানপাটে লুটপাটের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়। লিমোজে মুখোশধারীদের দেওয়া আগুনে ১৪০ বছরের বেশি পুরোনো সিটি হল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্সেই ও লিলের সিটি হলেও হামলা ও ভাঙচুর হয়; লিয়োঁয় বিক্ষোভকারীরা শহরের পর্যটন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, সরকারি স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে।

বেলজিয়াম, পর্তুগাল, ইতালি

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহের ছাত্রবিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় শনিবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পূর্বাঞ্চলীয় লিয়েজ শহরেও জলকামান ব্যবহার করা হয়।

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে কয়েক হাজার মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়, কম মজুরি এবং বড় শহরগুলোর আবাসন সংকটের প্রতিবাদে মিছিল করেন। ২০১৭ সালের পর থেকে দেশটিতে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ইতালির মিলানে যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ঊর্ধ্বমুখী ব্যয়ের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া পদযাত্রা প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ইতালীয় বার্তা সংস্থা লাপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন।

একটি সমন্বিত আন্দোলন নয়

এইচইসি প্যারিস বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক আলবার্তো আলেমানো আল জাজিরাকে বলেন, এগুলো একটি সমন্বিত আন্দোলন নয়; বরং একই সময়ে শুরু হওয়া পৃথক পৃথক বিক্ষোভ, যেগুলোর পেছনে কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে—শিক্ষায় অপর্যাপ্ত অর্থায়ন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। তাঁর মতে, গ্রিস, জার্মানি ও অস্ট্রিয়াতেও আন্দোলনের "প্রাথমিক লক্ষণ" দেখা যাচ্ছে।

এদিকে আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় শনিবার টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। শিক্ষা খাতে কম বরাদ্দ, কর্মসংস্থানের অভাব এবং রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে আন্দোলনের শুরু। ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সমাজতান্ত্রিক দলের প্রধানমন্ত্রী এডি রামা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা, লাপ্রেসে