ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত চার সেনাসদস্য নিহত ও কয়েক ডজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি রোববার হতাহতের খবর নিশ্চিত করে এটিকে 'দেশের ভূখণ্ডে শান্তিকালে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়গুলোর একটি' বলে বর্ণনা করেছেন।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
যা যা জানা গেছে
শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটের একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার বেগে বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ঘাঁটির সীমানা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী কার্নি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখনো বদলাচ্ছে। ঘটনার পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের সব ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি বলেছেন, 'সাম্প্রতিক স্মৃতিতে এরকম ঘটনা মনে করতে পারছি না' এবং পরিস্থিতিকে 'অত্যন্ত সক্রিয় ও সংবেদনশীল' বলে বর্ণনা করেছেন।
হাসপাতালে জরুরি অবস্থা
আহতের চাপে আলবার্টার একাধিক হাসপাতাল 'কোড অরেঞ্জ' জরুরি সাড়া প্রটোকল চালু করেছে। ওয়েনরাইটের ছোট হাসপাতাল আহতের ঢলে 'সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে' বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা; হেলিকপ্টার ও বিমানে রোগীদের এডমন্টনের বড় হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। শহরের মেয়র ব্রুস পিউ এই ঘটনাকে 'সম্প্রদায়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণ-হতাহতের ঘটনা' বলে উল্লেখ করেছেন। এডমন্টনের প্রায় ২১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই ঘাঁটি কানাডার অন্যতম ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র; এখানে রয়েছে কানাডিয়ান ম্যানুভার ট্রেনিং সেন্টার।
কারণ এখনো অনিশ্চিত
আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। সামরিক সূত্রের বরাতে গ্লোবাল নিউজ জানিয়েছে, লাইভ-ফায়ার প্রশিক্ষণের সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের লাইন বা কূপে আঘাত লেগে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হতে পারে — তবে সেনা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি। একই সূত্র জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা সাত পর্যন্ত হতে পারে; তবে সরকারের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত সংখ্যা এখনো চারজনই। আগুন কতদূর নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে, তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: এপি