ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
জাতীয় বজ্রপাত

পাঁচ বছরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগ বজ্রপাত, মৃত্যু ১ হাজার ৫৩০

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প নয়, বাংলাদেশে গত পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশি মানুষ মেরেছে বজ্রপাত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চমকে দেওয়ার মতো তথ্য।

পাঁচ বছরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগ বজ্রপাত, মৃত্যু ১ হাজার ৫৩০

ছবি: প্রথম আলো

২০২১ থেকে ২০২৫, এই পাঁচ বছরে দেশে ছয় ধরনের দুর্যোগে মোট ২ হাজার ৫৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বজ্রপাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৫৩০ জন। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ৬০ শতাংশই বজ্রপাতের কারণে।

'দুর্যোগের ধরণ, ক্ষয়ক্ষতি ও অগ্রাধিকার' শীর্ষক এই প্রতিবেদন গত ৬ অক্টোবর সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড, বজ্রপাত, ভূমিকম্প ও পাহাড়ধস, এই ছয়টি দুর্যোগের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বজ্রপাতকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে সবার ওপরে।

অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

বজ্রপাতের পর সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে অগ্নিকাণ্ডে, ৬৫৪ জন। পাঁচ বছরে দেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৮৬টি। এ সময়ে ৯টি বড় বন্যায় মারা গেছেন ১৯৭ জন। পাহাড়ধসে ৯০ জন, ছয়টি ঘূর্ণিঝড়ে ৫২ জন এবং ভূমিকম্পে ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

তবে অর্থনৈতিক ক্ষতির চিত্রটা উল্টো। পাঁচ বছরে পাঁচ ধরনের দুর্যোগে মোট ৪৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বন্যায়। ঘূর্ণিঝড়ে ১১ হাজার ৭৩৬ কোটি, অগ্নিকাণ্ডে ২ হাজার ২০ কোটি, ভূমিকম্পে ১০৮ কোটি এবং বজ্রপাতে ১০৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কখন বজ্রপাত বেশি হয়

প্রতিবেদনে বজ্রপাতের মাসভিত্তিক প্রবণতাও তুলে ধরা হয়েছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বজ্রপাত কম থাকলেও মার্চ থেকে বাড়তে শুরু করে। এপ্রিলে তা তীব্র হয়, আর মে মাসে পৌঁছায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে। জুন-জুলাইয়ে কমতে থাকে, সেপ্টেম্বরে আবার কিছুটা বাড়ে।

বজ্রপাত দেশের সব এলাকায় হলেও সবচেয়ে বেশি হয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলেও অন্য অঞ্চলের তুলনায় বজ্রপাত বেশি। নিহতদের বড় অংশই কৃষক।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বজ্রপাতকে সরকারিভাবে 'দুর্যোগ' হিসেবে ঘোষণা করা হয় ২০১৬ সালে, অর্থাৎ এক দশক আগে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনায় মোট ১৩টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ আছে।

বিশেষজ্ঞ যা বলছেন

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা প্রথম আলোকে বলেন, “মানুষের সঙ্গে কথা বলে আগে সমস্যাটা বুঝতে হবে। বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে কোনো প্রস্তুতি নেই। কারণ, বজ্রপাতে যাঁরা মারা যান, তাঁরা খুবই দরিদ্র মানুষ।”

তিনি আরও বলেন, “বজ্রপাতে যত মানুষ মারা যায়, তার তিন-চার গুণ গবাদিপশুর মৃত্যু হয়। সে হিসাবও করতে হবে। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা প্রটোকল তৈরি করা প্রয়োজন।”

সচেতনতার কথা বলা হলেও তা কতটা বাস্তবসম্মত, সে প্রশ্ন তুলে গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, বৃষ্টির সময় কৃষককে মাঠে যেতেই হবে। তাঁর মতে, কৃষকের মাঠ ও বাড়ি সুরক্ষিত করতে হবে এবং গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। প্রতিবেদনেও বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে সতর্কবার্তা, জনসচেতনতা ও নিরাপদ আশ্রয়ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।