পশ্চিম তীরে মুখোশধারী সেটলারদের হাতে মার্কিন সাংবাদিক ও ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
শুক্রবার ফিলিস্তিনিদের জলপাই চাষের কভারেজ নিতে গিয়েছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিন। মার্কিন এই নাগরিকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মুখোশধারী সেটলাররা, আক্রমণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরের দিন শনিবার আলাদা এক হামলায় পশ্চিম তীরের অন্য এলাকায় লক্ষ্য করা হয় ইউরোপীয় কূটনীতিকদের একটি প্রতিনিধিদল ও ফরাসি এক মেয়রকে।
পুলিশ জানিয়েছে, 'অলিভ লিফ' নামের এই অভিযান শুরু হয় ভোরে। তাতে অংশ নেয় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত, পাশাপাশি ছিল সেনাবাহিনীর এসকর্ট। আটকের পাশাপাশি কয়েকটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। তবে সন্দেহভাজনদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ, জানায়নি কোন অভিযোগে তাদের ধরা হয়েছে। গ্যালাটজ রেডিওর খবর, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ইসরায়েলি নাগরিক।
নেতাদের মুখে ভিন্ন ভাষা
ঘটনা নিয়ে পশ্চিমা রাজধানীগুলোতে ক্ষোভের ঝড়। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, সবাই নিন্দা জানিয়েছে। রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, সহিংস সেটলারদের এই হামলার তারা 'দৃঢ়ভাবে নিন্দা' করে।
কিন্তু ইসরায়েলের ভেতরে সুর দুটো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ও সেনাবাহিনী কূটনীতিকদের ওপর হামলার দায় চাপিয়েছে 'ইসরায়েলি দাঙ্গাবাজদের' ঘাড়ে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবশ্য অনেক সতর্ক। তার ভাষ্য, কূটনীতিকরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে আগাম সমন্বয় না করেই 'সংঘাতের ইতিহাস আছে এমন সংবেদনশীল এলাকায়' প্রবেশ করেছিলেন। লেভিনের ওপর হামলার 'প্রকৃত তথ্য অস্পষ্ট' বলেও দাবি তার।
এই সাবধানতার পেছনে রাজনীতিও আছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন, আর জরিপগুলো বলছে গভর্নিং সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে যাচ্ছে নেতানিয়াহুর জোট।
ক্রমেই বাড়ছে হামলা
ফিলিস্তিনিদের ওপর সেটলার হামলা যেন থামছেই না। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ইয়েশ দিনের হিসাব অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে এমন অন্তত ১৭০টি হামলা হয়েছে। সাংবাদিক, ইসরায়েলি অধিকারকর্মী ও বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও ছাড় পাচ্ছেন না। আর এসব হামলায় সেটলারদের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বিরল।
সূত্র: রয়টার্স