ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, হাসিনা আত্মসমর্পণ করলেও তাকে আইনের আওতায় এনে কারাগারে পাঠানো হবে।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ করলে বিদ্যমান আইন অনুসরণ করা হবে; তাকে জেলে যেতেই হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, বিদেশে বসে হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের উদ্দেশ্য আত্মগোপনে থাকা বা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উৎসাহ দেওয়া। এ ছাড়া এর আর কোনো কারণ তিনি দেখেন না বলে মন্তব্য করেন।
শামা ওবায়েদ জানান, হাসিনা ইতিমধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং তিনি কোথায়, কখন আত্মসমর্পণ করবেন—সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার নিজের। দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ তিনটি মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে; অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে জানান তিনি।
ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কঠোর বার্তা
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম শনিবার হাসিনাকে দেশকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে—এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার খবরের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে আসুন বা জানুয়ারিতে—সেটা তার সিদ্ধান্ত, তবে বাংলাদেশ চায় তিনি আগামীকালই ফিরুন; তাই কোনো কৌশল বা দেশে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
গত ৮ এপ্রিল হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতের কাছে অনুরোধ নবায়ন করে ঢাকা। দুজনেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত। এপ্রিলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, অনুরোধটি চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার প্রত্যর্পণ চাওয়া অব্যাহত থাকবে।