চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে আজ সোমবার থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল যে আমরণ অনশন, তা আপাতত স্থগিত করল চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রোববার ঢাকায় নৌপরিবহনমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সংগঠনটি এই সিদ্ধান্ত নেয়।
ছবি: আজকের পত্রিকা
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন স্থগিতাদেশের খবর নিশ্চিত করে জানান, বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, মন্ত্রীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, তবে এক বৈঠকে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। শান্তিপূর্ণ পথেই সমাধান চান বলে জানান তিনি।
দাবি দুটি
দীর্ঘদিন ধরে এই পরিষদ দুটি প্রধান দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। প্রথমত, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল করা; দ্বিতীয়ত, বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সংগঠনটির আশঙ্কা, টার্মিনাল ইজারা হলে বন্দরের হাজার হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়বে।
আন্দোলন থামেনি
অনশন কর্মসূচি স্থগিত হলেও আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়নি। সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণের পথে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে। দ্রুতই সংগঠনের বৈঠকে বসে ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তাঁরা।
বৈঠকে নৌপরিবহনমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিষদের নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন বলে জানা গেছে। শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আরও আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির নেতারা। তবে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, একটি বৈঠকের মধ্য দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
সংগঠনটি জানিয়েছে, শিগগিরই নিজেদের বৈঠকে বসে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে। সেখানকার সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ানস্টপ সার্ভিস ভবনের সামনে প্রতীকী গণঅনশন পালন করে সংগঠনটি। সেই কর্মসূচি থেকেই ১৯ অক্টোবর থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। রোববারের বৈঠকের পর সেই পরিকল্পনা আপাতত বাতিল হলো।