ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
জাতীয় মানবাধিকার

৯ মাসে গণপিটুনিতে ১৮৭ জন নিহত, রাজনৈতিক সংঘর্ষে ৭৩: এইচআরএসএস প্রতিবেদন

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশে গণপিটুনি ও গণরোষের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৭ জন। একই সময়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন আরও ৭৩ জন। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর মেয়াদের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

৯ মাসে গণপিটুনিতে ১৮৭ জন নিহত, রাজনৈতিক সংঘর্ষে ৭৩: এইচআরএসএস প্রতিবেদন

ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

গণপিটুনিতে প্রাণহানি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৯৮টি গণরোষ ও গণপিটুনির ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই সন্দেহে পাশাপাশি কথা কাটাকাটি, রাজনৈতিক আধিপত্য, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির মূল্যায়নে, এই প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শূন্যতার প্রতিফলন।

গণপিটুনির পাশাপাশি প্রতিবেদনে ৪৬৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ৪৯১টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে বস্তাবন্দি ৪৬টি, গলায় ফাঁস দেওয়া ৮৭টি, জবাই করা ৩৫টি, একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকা ৭৪টি এবং হাত-পা বাঁধা ৩১টি মরদেহ ছিল।

রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও নির্বাচনী সহিংসতা

রাজনৈতিক সহিংসতার দিক থেকেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। নয় মাসে ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় ৭৩ জন নিহত এবং ৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন — প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা ৬,৪৭৩ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিরোধ, জমি দখল ও নির্বাচনকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের জেরে এসব সহিংসতা ঘটেছে।

এছাড়া জেলে মারা গেছেন ৯৫ জন বন্দি, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে বা নির্যাতনের পর মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেছে আরও ১৩ জনের।

১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর, সংস্থাটির নিজস্ব তথ্য সংগ্রহ ও ঘটনাস্থল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, রাজনৈতিক বিরোধ, দখলবাজির দ্বন্দ্ব, নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘর্ষ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণরোষের হামলা এবং জেল-হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।