২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে টু-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। 'টু-জি সানসেট' নামের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে টু-জি হ্যান্ডসেট বা বাটন ফোনের আমদানি, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণও ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে।
ছবি: দ্য ডেলটা লেন্স
গত ২৯ সেপ্টেম্বরের কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের স্পেকট্রাম রোডম্যাপের আলোকে মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও অপারেটরদের মতামত নিয়ে রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবটি এখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ধাপে ধাপে বন্ধের সময়সীমা
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর কোনো অরিজিনাল ডিজাইন ম্যানুফ্যাকচারারকে (ওডিএম) টু-জি হ্যান্ডসেট উৎপাদনের নতুন অনুমোদন দেওয়া হবে না। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের পর পিসিবিএ অনুমোদন বন্ধ হবে। টু-জি যন্ত্রাংশ আমদানির শেষ সময় ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল, আর ওই বছরের ৩০ জুনের পর উৎপাদিত কোনো টু-জি ফোন বাজারে বিক্রির অনুমতি পাবে না। গ্রাহক পর্যায়ে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে টু-জি পুরোপুরি বন্ধের লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ ২০৩১ সাল পর্যন্ত পেছানো যেতে পারে।
চ্যালেঞ্জ সাড়ে ৬ কোটি ব্যবহারকারী
বিটিআরসির তথ্য বলছে, দেশের প্রায় ১৯ কোটি মোবাইল সংযোগের মধ্যে সাড়ে ৬ কোটির বেশি গ্রাহক ফিচার ফোন ব্যবহার করেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে হ্যান্ডসেটের ৩৫ শতাংশই ছিল ফিচার ফোন। বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, টু-জি হ্যান্ডসেটের গড় আয়ু দুই থেকে আড়াই বছর। সেই হিসাবেই সময়সীমা সাজানো হয়েছে, যাতে প্রস্তুতকারক বা ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়েন।
"আমাদের টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করতেই হবে, এবং আমরা তা করব। কিন্তু প্রস্তুতকারক বা ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতির মুখে না পড়ে, সেজন্য আমরা কৌশল তৈরি করছি," বলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। তিনি জানান, সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে কর কমানোর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সহজ কিস্তি সুবিধার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও এত বিশাল সংখ্যক গ্রাহককে এত কম সময়ে নতুন প্রযুক্তিতে নেওয়া সহজ নয়। তাঁর ভাষায়, দেশে এক হাজার টাকার নিচে বাটন ফোন পাওয়া গেলেও সস্তা স্মার্টফোনের দাম প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা থেকে শুরু, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ।