ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

স্বাভাবিক আবেগকেই 'রোগ' বানানো হচ্ছে: মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর: স্বাভাবিক আবেগ-অনুভূতিকে ক্রমাগত 'রোগ' হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে — যুক্তরাজ্যের পাঁচজনের মধ্যে চারজনেরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী এমনটাই মনে করেন। এক জরিপে উঠে এসেছে, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, অটিজম এবং বিশেষ করে এডিএইচডির মতো অবস্থার অতিরিক্ত রোগনির্ণয় হচ্ছে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

স্বাভাবিক আবেগকেই 'রোগ' বানানো হচ্ছে: মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

পরীক্ষামূলক মনোবিজ্ঞানী স্যাম ডের উদ্যোগে পরিচালিত এ জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পেশাজীবী মনে করেন মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে 'গ্ল্যামারাইজ' করা হচ্ছে এবং নিউরোডেভেলপমেন্টাল অবস্থা এখন একধরনের কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

'অসুস্থ হওয়া আর দুঃখিত হওয়া এক নয়'

জরিপে ১০৮ জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, থেরাপিস্ট ও অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ১,৫২১ জন প্রাপ্তবয়স্কের প্রতিনিধিত্বমূলক মতামত নেওয়া হয়। পেশাজীবীদের ৮২ শতাংশ মনে করেন 'মানুষের চিন্তা-আবেগের স্বাভাবিক দিকগুলোকে ক্রমাগত চিকিৎসাবিজ্ঞানের আওতায় আনা হচ্ছে'; সাধারণ মানুষের মধ্যে এ মত মাত্র ৫৩ শতাংশের। এডিএইচডি অতিরিক্ত রোগনির্ণয় হচ্ছে বলে মনে করেন ৭৪ শতাংশ পেশাজীবী, সাধারণ জনগণের মধ্যে যা ৩৯ শতাংশ। ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস ও অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি) — এই দুটি ছাড়া প্রায় সব সাধারণ মানসিক অবস্থার ক্ষেত্রেই পেশাজীবীরা অতিরিক্ত রোগনির্ণয়ের দিকে বেশি ঝুঁকেছেন।

স্যাম ডে বলেন, 'অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে দুঃখিত বা উদ্বিগ্ন হওয়াকে গুলিয়ে ফেলা যাবে না — যদিও খারাপ মানসিক স্বাস্থ্য ও নিউরোডাইভারজেন্সের হার সত্যিই বাড়ছে।' প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পেশাজীবী মনে করেন, কেউ নিজে নিজে রোগনির্ণয় করলে তা 'আত্মপূরণকারী ভবিষ্যদ্বাণীতে' পরিণত হতে পারে।

যুবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, তবে এডিএইচডির হার স্থিতিশীল

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী পিটার ফোনাগির নেতৃত্বাধীন সরকারি পর্যালোচনাতেও এডিএইচডি ও অটিজমের অতিরিক্ত বা ভুল রোগনির্ণয়ের গুরুতর ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। পর্যালোচনায় বলা হয়, রোগনির্ণয়কে 'সহায়তা পাওয়ার একমাত্র নির্ভরযোগ্য চাবি' বানানোয় চাহিদা বেড়েছে — এর সঙ্গে সুবিধা ও স্কুলে সহায়তা পাওয়ার বিষয় জড়িত। তবে এতে আরও দেখা গেছে, যুবকদের মধ্যে মানসিক কষ্ট সত্যিই বেড়েছে; প্রায় ৪০ লাখ শিশু-কিশোর, অর্থাৎ পাঁচজনের একজন, উচ্চ মাত্রার মানসিক চাপে ভুগছে। অপ্রয়োজনীয় রোগনির্ণয় এক প্রজন্মের 'দরজা বন্ধ করে', উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমিয়ে ও শিশুদের তাদের অক্ষমতা দিয়েই সংজ্ঞায়িত করে ক্ষতি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়। তবে ২০০০ সালের পর এডিএইচডি ও অটিজমের অন্তর্নিহিত হার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও কমিউনিটি মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক স্বরণ সিং সতর্ক করেছেন, এই ফলাফল স্কিজোফ্রেনিয়া, সাইকোসিস বা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের মতো গুরুতর মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় — সেখানে প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও কার্যকর চিকিৎসা অপরিহার্য। তার মন্তব্য, 'আমরা এমন সংস্কৃতি তৈরি করার ঝুঁকিতে আছি, যেখানে প্রতিটি যন্ত্রণাকেই ব্যাধি মনে করা হবে।' এমপিদের সামনে বক্তব্যে ফোনাগি খাবারের সময় বাবা-মায়ের মোবাইল ফোন ব্যবহারেরও সমালোচনা করেন; বলেন, এতে শিশুদের সঙ্গে মুখোমুখি মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ কমে।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদা, টেলিগ্রাফ