দোকানের কাচ ভেঙে চুরমার। ভেতরে ঢুকে লুটপাট চলছে। ঠিক তখনই ভাঙা দরজার সামনে একা এসে দাঁড়ালেন একজন মানুষ। পাশে দেয়ালে ড্রাগন বলের গোকুর বড় পোস্টার। ছবিটা এখন সারা দুনিয়ায় ভাইরাল।
ছবি: কোটাকু
ঘটনা ফ্রান্সের দক্ষিণের শহর নিসে। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা ফ্রান্সে বিক্ষোভ হয়। কোথাও কোথাও তা সহিংস রূপ নেয়, ভাঙচুর আর লুটপাট শুরু হয় দোকানপাটে। নিসের জঁ-মেদসাঁ অ্যাভিনিউয়ে গেমের দোকান মাইক্রোম্যানিয়ার শোরুমটাও আক্রমণের শিকার হয়। দোকানের ম্যানেজার পিয়েরে সেদিন ছুটিতে ছিলেন। এক সাবেক সহকর্মীর ফোন পেয়ে ছুটে আসেন। এসে দেখেন, কাচের দরজা গুঁড়িয়ে গেছে, লোকজন ভেতরে ঢুকে জিনিসপত্র টানাটানি করছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পিয়েরে লুটেরাদের তাড়া করে বের করে দিতে যান। তার দিকে ছোড়া হয় নানা জিনিসপত্র। ফিরে আসার পথে পেছন থেকে একজন উড়ে এসে লাথি মারে তার পিঠে। মাটিতে পড়ে যান তিনি। কিন্তু উঠে দাঁড়ান আবার। একজন পথচারী তার ছিটকে পড়া চশমাটা তুলে হাতে দেন। পিয়েরে ফিরে যান সেই ভাঙা দরজার সামনেই, গোকুর পোস্টারের পাশে। এত কিছুর পরও দোকানটা শেষ পর্যন্ত লুট হয়ে যায়। তবে ছবিটা ততক্ষণে ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে, দুই লাখের বেশি লাইক। নেটিজেনরা তার নাম দিয়েছেন 'নিসের গোকু'।
'বোকামি ছিল, কিন্তু সেই মুহূর্তে এটাই করেছি'
পরদিন ফরাসি বেতার আইসিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিয়েরে বলেছেন, তিনি চেয়েছিলেন লোকজন যেন মাইক্রোম্যানিয়ায় ঢুকতে না পারে। ভেবে চিন্তে কিছু করেননি। তার কথায়, 'কী ঘটেছে, সেটা এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। হয়তো পরে বুঝব। আমার মনে হয় কাজটা করা ঠিক হয়নি। বোকামি ছিল। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমি এটাই করেছি।' স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হয়েছেন।
তবে বিক্ষোভকারীদের সবাইকে দায়ী করতে রাজি নন তিনি। পিয়েরের ভাষায়, সহিংসতা চালানো লোকজন সংখ্যায় খুবই কম। বাকি মিছিলটা শান্তই ছিল। 'কয়েকটা পচা আপেল আছে, কিন্তু তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়।'
নামের তহবিল নিয়ে সতর্কবার্তা
ভিডিও ভাইরাল হতেই পিয়েরের নামে অনলাইনে একাধিক তহবিল সংগ্রহের পেজ খোলা হয়েছে। কিন্তু পিয়েরে নিজেই সবার সতর্ক করে দিয়েছেন। ফ্রান্স ইনফোকে তিনি জানিয়েছেন, এসবের কোনোটিই তার উদ্যোগে খোলা হয়নি, কেউ তার সঙ্গে কথাও বলেনি। যাচাই না করে টাকা না দিতে অনুরোধ করেছেন তিনি।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে সারা দেশে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন, গ্রেপ্তার হন ১২০০ জনের বেশি। খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠনের হিসাবে, সপ্তাহান্তে প্রায় দেড় হাজার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে।
সূত্র: আইসিআই (রেডিও ফ্রান্স)