বাংলাদেশে শাখা খোলার সম্ভাবনা যাচাই করতে আজ বেইজিংয়ে আয়োজন করা হয়েছে 'বাংলাদেশ ডে'। চায়না এক্সিম ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ব্যাংকটির বেইজিং সদর দপ্তরে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
অনুষ্ঠানে আলোচনা হবে শাখা স্থাপনের বাস্তবতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া নিয়ে। চীনা ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরও উপস্থিত থাকার কথা।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এখন চীনে। সংস্থাটির সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, উদ্যোগের লক্ষ্য বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনায় চীনা ব্যাংকগুলোর আগ্রহ পরিমাপ করা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরা।
২ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য, তবু শাখা নেই
একটা পরিসংখ্যানই বলছে কাহিনিটা: বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার, অথচ বাংলাদেশে কোনো চীনা ব্যাংকের শাখা নেই। উল্টো, চীনের সঙ্গে তুলনামূলক কম বাণিজ্য আছে, এমন অনেক দেশে চীনা ব্যাংকের শাখা চলছে।
অনুষ্ঠানের পর আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আলাদা বৈঠকেরও পরিকল্পনা আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র বলছে, কোনো চীনা ব্যাংক শাখা খুলতে চাইলে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, চীনা ব্যাংকের শাখা দ্বিপাক্ষিক লেনদেন সহজ করবে, আমদানি-রপ্তানিতে অর্থায়ন দেবে, বিনিয়োগে গতি আনবে। বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, চীনা ব্যাংকগুলো 'অত্যন্ত আগ্রহী'। প্রক্রিয়া সহজ করতে চেম্বার সম্প্রতি কুনমিং সফরে একটি চীনা ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকও সই করেছে।
"আমাদের এখানে একটা চীনা ব্যাংক থাকলে চীনা মুদ্রায় এলসি খুলতে পারতাম," বলেন খোরশেদ। তার তথ্য, শ্রীলঙ্কায় চীনা ব্যাংকের শাখা আছে, যদিও চীনের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য অনেক কম।