ছবি: বাফুফে
তিন দিনের ব্যবধানে দুই দফা ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। দুবারই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।
প্রথম দফায় গত রোববার মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় নামেন ফিফা সভাপতি। দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে ভিআইপি লাউঞ্জে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন তিনি। সেখানে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও সহসভাপতিরা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে বেলা ২টা ৫০ মিনিটে ভুটানের রাজধানী থিম্পুর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন ইনফান্তিনো।
ওই বৈঠকে বাংলাদেশের ফুটবল অবকাঠামোর উন্নয়ন, ফিফা ফরোয়ার্ড তহবিলের অর্থ ছাড় ও তার ব্যবহার এবং তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের প্রসার নিয়ে আলোচনা হয়। তাবিথ আউয়াল জানান, সরকার ইতিমধ্যে বাফুফেকে ১৫ একর জমি দিয়েছে এবং দুটি স্টেডিয়াম পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। স্টেডিয়াম সংস্কার, আধুনিক ফ্লাডলাইট স্থাপন, টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ ও সিলেটে হাইব্রিড পিচ তৈরিতে ফিফার বরাদ্দ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় গত মঙ্গলবার ভুটান থেকে টোকিও যাওয়ার পথে আবার ঢাকায় থামেন ইনফান্তিনো। এএফসি কংগ্রেসে যোগ দিতে টোকিও যাচ্ছিলেন তিনি। এবার বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বাফুফের দুই সহসভাপতি সাব্বির আহমেদ আরিফ ও ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম।
এই সাক্ষাতে দক্ষিণ এশিয়ায় ঘরোয়া ফুটবলের মানোন্নয়নের ওপর জোর দেন ইনফান্তিনো। দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ক্লাবগুলোকে নিয়ে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়। ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা করেছেন ফিফা সভাপতি।
ফাহাদ করিম সাংবাদিকদের বলেন, দেশের টেকনিক্যাল সেন্টারে ফিফার একটি বড় প্রকল্প চলছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন ইনফান্তিনো। আগামী মার্চে ফিফা কংগ্রেসে সদস্য দেশগুলোর অনুদান বাড়ানোর প্রস্তাব উঠতে পারে বলেও জানান তিনি। প্রযুক্তিগত কাজ দৃশ্যমান হলে সেগুলোর উদ্বোধনে ইনফান্তিনোকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে বাফুফে।
মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নেতার দুই দফা ঢাকা সফর বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক সংকেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফিফার চলমান সহায়তা ও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি দেশের ঘরোয়া ফুটবলের অবকাঠামো বদলে দিতে পারে বলে আশা বাফুফে কর্মকর্তাদের।