বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশের পরও যাচাই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন ৪৫তম বিসিএসের ৫৬ জন প্রার্থী। তাদের অন্তত ৯ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের।
ছবি: প্রথম আলো
আজ বুধবার প্রকাশিত প্রথম আলোর খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ১১ মাস আগে বিপিএসসি ১,৮০৭ জনের নাম সুপারিশ করেছিল। কিন্তু গত ১৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা গেজেটে নিয়োগ পেয়েছেন ১,৭০২ জন। ফলে বাদ পড়েছেন ১০৫ জন।
এর মধ্যে ৪৯ জন শারীরিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অংশই নেননি। বাকি ৫৬ জনকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে যাচাই-বাছাই শেষে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শুধু ৪৫তম বিসিএসেই নয়, শিক্ষা ক্যাডারের ৪৯তম বিশেষ বিসিএসেও একই ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বিপিএসসি ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে মনোনীত করলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে নিয়োগ পেয়েছেন ৬১১ জন। বাদ পড়েছেন ৫৭ জন।
পরিবারে মুখ দেখাতে পারছেন না প্রার্থীরা
বাদ পড়া প্রার্থীদের একজন শুভ্র দেবনাথ। তিনি ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) ও ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছিলেন। কিন্তু ১৪ অক্টোবরের গেজেটে তার নাম নেই। এর আগে ২২ জানুয়ারির ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) গেজেটেও তার নাম আসেনি।
শুভ্র দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে কে বা কারা লেগেছে, কেন লেগেছে, আমি জানি না। তবে মেধার ভিত্তিতে সরকার আমাকে বাদ দিতে পারেনি। যা ঘটছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"
৪৬তম বিসিএসে তিনি পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছেন। এখন সেখান থেকেও বাদ পড়ার ভয়ে দিন কাটছে তার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করা এইচ এম ফেরদৌস খান ৪৫তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছিলেন। গেজেট থেকে নাম বাদ পড়ার পর তার ভাষায়, "সমাজে বা পরিবারের সামনে মুখ দেখাতে পারি না। সবাই আমাকে সন্দেহের চোখে দেখে, যেন আমি আসলে কোনো অপরাধ করেছি।"
মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, অনশনের হুমকি
শনিবার বাদ পড়া ৫৬ জন প্রার্থী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেন। তাদের দাবি, অন্যায়ভাবে কেউ বাদ পড়লে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন।
পরদিন রোববার তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে আলাদা আবেদন জমা দেন।
সোমবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। মঙ্গলবারও অবস্থান অব্যাহত ছিল। প্রার্থী মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, দাবি মানা না হলে বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করবেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, "রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বলে সরকার আশ্বস্ত করছে।"
বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৯ জনের নাম প্রকাশ হয়েছে। তারা হলেন স্বাস্থ্য ক্যাডারের শুভ্র দেবনাথ, কুশল দাস, বুদ্ধদেব কর, সৌরভ মণি সরকার ও সুব্রত তালুকদার; প্রাণিসম্পদ ক্যাডারের শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নন্দী ও পার্থ সরকার; কৃষি ক্যাডারের চন্দন বিশ্বাস এবং পুলিশ ক্যাডারের চিন্ময় বর্মণ।