ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক ভারত

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছের ঐতিহাসিক মসজিদকে ছয় দিনের উচ্ছেদ নোটিশ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছের একটি ঐতিহাসিক মসজিদকে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে দেশটির ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলএনডিও)। নোটিশে প্রাঙ্গণটিকে 'অননুমোদিত' ঘোষণা করে ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার এই নোটিশ জারি হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছের ঐতিহাসিক মসজিদকে ছয় দিনের উচ্ছেদ নোটিশ

ছবি: ডেইলি ওয়াদা

নয়াদিল্লির রেস কোর্স মসজিদটি ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের কাছেই অবস্থিত। নয়াদিল্লি পৌর পরিষদের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তির তালিকায় মসজিদটির নাম রয়েছে। তবে এলএনডিওর দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে দাঁড়িয়ে আছে। গত ৭ অক্টোবর মসজিদের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

হস্তক্ষেপ চাইছে মুসলিম সংগঠন

ঘটনার পর জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর হস্তক্ষেপ চেয়েছে। সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ হাকিমউদ্দিন কাসমির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। তাতে বলা হয়, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তালিকায় জায়গাটির নাম রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভাঙচুর না করার আহ্বান জানিয়েছে জমিয়ত।

মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, ছয় মাস ধরে তিনি দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাননি। তাঁর ভাষায়, পানির সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাবার পানিও আনা যাচ্ছে না। মসজিদে যাতায়াতের পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ওয়াইসির দাবি, ওয়াকফ হিসেবে সুরক্ষিত

এআইএমআইএম নেতা ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসিও রিজিজুর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তাঁর দাবি, ১৯৭৭ সাল থেকে মসজিদটি গেজেটভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি। সংশোধিত ওয়াকফ আইনে 'ব্যবহারের ভিত্তিতে ওয়াকফ' হিসেবে এটি সুরক্ষিত বলেও তিনি যুক্তি দেন।

এদিকে এলএনডিওর অবস্থান, প্রাঙ্গণটি সরকারি জমি। ঐতিহাসিক স্বীকৃতি ও জমির মালিকানা নিয়ে এই বিরোধ এখন আদালত ও প্রশাসনের দ্বারস্থ।