ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, প্রত্যাশা ছাড়িয়ে

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চীনের অর্থনীতি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। সোমবার জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। রয়টার্সের জরিপে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, প্রত্যাশা ছাড়িয়ে

ছবি: ডেইলি ওয়াদা

দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যা তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে অর্থনীতি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা সরকারের বার্ষিক ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থনীতি ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা ১ দশমিক ১ শতাংশের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে।

রপ্তানি নির্ভর প্রবৃদ্ধি

এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল শক্তিশালী রপ্তানি। সেপ্টেম্বরে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে, ফলে দেশটি গত বছরের রেকর্ড ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ায় এই রপ্তানি-নির্ভর প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ বাড়ছে।

দ্বিমুখী অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অর্থনীতি এখন "দ্বিমুখী" চরিত্রের—শক্তিশালী শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানির আড়ালে দুর্বল ভোক্তা চাহিদা ও বেসরকারি বিনিয়োগ লুকিয়ে আছে, আর আবাসন খাতে মন্দা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি বেইজিং গৃহক্রেতাদের জন্য সহায়তা বাড়িয়েছে, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে সস্তা ঋণের ব্যবস্থা করেছে এবং স্থানীয় সরকারের আর্থিক চাপ কমাতে ৫৫০ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৮ হাজার ২২৮ কোটি ডলার) অব্যবহৃত সরকারি ঋণ কোটা বরাদ্দ দিয়েছে।

তৃতীয় প্রান্তিকের এই ফলাফল বার্ষিক লক্ষ্য অর্জনে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ কিছুটা কমিয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পূর্ণ বছরের লক্ষ্য পূরণে চতুর্থ প্রান্তিকেও শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রয়োজন হবে।