স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত দেবে বলে আশা করছে সরকার। সোমবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই তথ্য জানান।
ছবি: ডেইলি ওয়াদা
উপদেষ্টা বলেন, প্রস্তাবিত সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে জাতিসংঘের ভেতর থেকে সমর্থন পাওয়া গেছে। ডি-৮ভুক্ত দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
কেন বাড়তি সময় দরকার
মুক্তাদির বলেন, আগের সরকারগুলো উত্তরণকে রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখলেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা ও অন্যান্য সহায়তা হারানোর জন্য অর্থনীতিকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করেনি। তাই বাড়তি সময় অপরিহার্য। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালে এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটার কথা রয়েছে।
উত্তরণ-পরবর্তী রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইতিমধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) সই হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা নভেম্বরে শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এছাড়া শুধু জিএসপি প্লাসের ওপর নির্ভর না করে উত্তরণের আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্নের লক্ষ্য রয়েছে। ওমান, সিঙ্গাপুর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তুতি চলছে।
আমলাতান্ত্রিক জট কমানোর লক্ষ্য
ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে ২০২৭ সালের মধ্যে বড় সংস্কারের পরিকল্পনার কথা জানান উপদেষ্টা। বর্তমানে একজন বিনিয়োগকারীকে ২৩-২৪টি মন্ত্রণালয় থেকে ৩০-৪০টি আলাদা অনুমতি নিতে হয়—এই প্রক্রিয়া তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এখন ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব, আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ও যন্ত্রপাতির জন্য এলসি খোলাসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে ব্যবসায়ীদের গড়ে ৩৫৫ দিন লাগে।
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে ট্রেড লাইসেন্সিং ডিজিটাল করা হবে—অনলাইনে কাগজপত্র জমা, ফি পরিশোধ ও লাইসেন্স প্রিন্ট করা যাবে। যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের (আরজেএসসি) কাছে কোম্পানি নিবন্ধন ও শেয়ার হস্তান্তর পুরোপুরি ডিজিটাল হবে। লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন থেকে পাঁচ বছর করা এবং বিভিন্ন সংস্থার আলাদা পরিদর্শনের বদলে সমন্বিত যৌথ পরিদর্শন চালুর প্রস্তাব রয়েছে।
এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য
উপদেষ্টা বলেন, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও বেশি বিনিয়োগ দরকার। প্রতি বছর আনুমানিক ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ কর্মবাজারে প্রবেশ করে—তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগ আকর্ষণ অপরিহার্য। বিনিয়োগের চারটি প্রধান শর্ত চিহ্নিত করেন তিনি: নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, ঝামেলামুক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, স্বচ্ছ বিরোধ নিষ্পত্তি এবং দেশি-বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকার।