ঢাকা, ১৬ অক্টোবর: ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী নাসিমা খান চিরবিদায় নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জানাজা শেষে আজিমপুরের পুরনো কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে তাঁকে।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে আজিমপুর পুরনো কবরস্থান মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজা ও দাফনে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ছেলের উপস্থিতি, মায়ের শেষ ইচ্ছা
মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন বড় ছেলে উপল। মৃত্যুর এক দিন আগে ফোনে মায়ের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল তাঁর; তখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন নাসিমা খান। ভিডিও কলে ছেলেকে চিনতে পারলেও তাঁর কথা বুঝতে পারছিলেন না অভিনেত্রী।
উপল জানান, মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল ধর্মীয় রীতি মেনে দাফন করা—সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। তবে আরেকটি আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণই রয়ে গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি তাঁর ছোট ছেলে নাবিল নাসির কুশল। সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছোট ছেলেকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন নাসিমা খান।
সাড়ে পাঁচ দশকের পথচলা
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম নাসিমা খান। ১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক হয়। ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পরিচিতি পান তিনি। ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। সর্বশেষ ২০১১ সালে ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
