ঘুম থেকে ওঠার আগেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে বদলে গেল একটি পরিবারের জীবন। বুধবার ভোরে গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শরীরের ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ছবি: টিবিএস
সকাল ৬টার দিকে টঙ্গীর ভাদাম সড়কে মাদ্রাসা মার্কেটের কাছে একটি দোতলা ভবনের নিচতলায় বিস্ফোরণটি ঘটে। আহতরা হলেন লালচান মিয়া (৪৪), তার স্ত্রী নাসিমা খাতুন (৪০) এবং তাদের মেয়ে তানিশা আক্তার (১৬)। তিনজনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ জানান, লালচানের শরীরের ৯৫ শতাংশ, নাসিমার ৮৫ শতাংশ এবং তানিশার ৮৬ শতাংশ পুড়ে গেছে। তিনজনেরই শ্বাসনালীতে আগুনের ক্ষতি হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দম্পতির বড় মেয়ে বিউটি আক্তার কাছেই থাকেন। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে তিনি ছুটে যান ঘটনাস্থলে। বিউটি জানান, ঘরে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন সংযোগ থাকলেও রান্নার জন্য তারা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতেন।
"সন্দেহ করছি, রাতের কোনো একসময় কোনো একটি লাইন থেকে গ্যাস বেরিয়ে ঘরের ভেতরে জমে ছিল। সকালেই সেটিতে বিস্ফোরণ ঘটে," বলেন তিনি।
পরিবারটির বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী কুরিপাড়ায়। লালচান ও নাসিমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় অপারেটরের কাজ করেন। তানিশা স্কুলছাত্রী।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আহতদের বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তির পর থেকেই তিনজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা বারবার ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বদ্ধ ঘরে জমে থাকা গ্যাসে একটি ছোট স্ফুলিঙ্গও মুহূর্তে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রান্নাঘরে নিয়মিত গ্যাস সংযোগ পরীক্ষার পরামর্শ দেন তারা।
গ্যাস কোথা থেকে লিক হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে আরও তদন্ত চলছে।