শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বাড়িয়ে দিতে পারে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএসের ঝুঁকি। সুইডেনে ২ হাজার ৮৫৩ জনের ওপর চালানো এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রেসক্রিপশনের সংখ্যা যত বেশি, ২৪ বছর বয়সে আইবিএসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত ইউইজি উইক ২০২৬ সম্মেলনে এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে। গবেষকরা সুইডেনের বামসে জন্ম-সমন্বয় দলের অংশগ্রহণকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ২০০৫ সালে, যখন অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ৯ থেকে ১১ বছর, তখন থেকে ২৪ বছর বয়সে আইবিএস মূল্যায়নের এক বছর আগ পর্যন্ত তাদের অ্যান্টিবায়োটিকের প্রেসক্রিপশনের রেকর্ড নেওয়া হয় সুইডিশ প্রেসক্রাইবড ড্রাগ রেজিস্টার থেকে।
যত বেশি প্রেসক্রিপশন, তত বেশি ঝুঁকি
২৪ বছর বয়সে ১০ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর আইবিএস ধরা পড়ে। আইবিএসে আক্রান্তদের মধ্যে ৮৭.৮ শতাংশ কখনো না কখনো অ্যান্টিবায়োটিক নিয়েছিলেন, যেখানে আইবিএস না থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এই হার ছিল ৮০.২ শতাংশ। লিঙ্গ ও পারিবারিক আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নেওয়ার পর দেখা গেছে, অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া ব্যক্তিদের আইবিএসের সম্ভাবনা ছিল ১.৫ গুণ (৯৫ শতাংশ সিআই ১.০–২.২)।
এক বা দুটি প্রেসক্রিপশন নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা ছিল ১.৩ গুণ, তিন থেকে পাঁচটি প্রেসক্রিপশনে ১.৬ গুণ এবং ছয় বা ততোধিক প্রেসক্রিপশনে ১.৭ গুণ। অ্যান্টিবায়োটিকের শ্রেণিভেদে দেখা গেছে, টেট্রাসাইক্লিন ব্যবহারকারীদের আইবিএসের সম্ভাবনা ছিল ১.৪ গুণ, আর তিন বা ততোধিক বার সেফালোস্পোরিন নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ছিল ৬ গুণ পর্যন্ত।
পেছনে থাকতে পারে অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম
অ্যান্টিবায়োটিক কেন আইবিএসের সঙ্গে যুক্ত, তা এই গবেষণায় খতিয়ে দেখা হয়নি। তবে গবেষণার প্রধান লেখক ড. জেসিকা সিউলুন্ড বলেন, আগের গবেষণায় দেখা গেছে অ্যান্টিবায়োটিক অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম বদলে দিতে পারে, এবং মাইক্রোবায়োমের পরিবর্তন আইবিএসে ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয় — সেটিই এই সম্পর্কের পেছনের একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক এখনো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ, তাই প্রয়োজন হলে এটি না নেওয়ার কারণ এই ফলাফল নয়। বরং বারবার ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ইঙ্গিত দেয় এটি এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এড়ানোর পক্ষে আরও একটি যুক্তি যোগ করে।
সূত্র: সিএনএ