দেশে হামের প্রাদুর্ভাব থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঘটেছে এই মৃত্যুগুলো। এ নিয়ে চলতি বছর সারা দেশে হামে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ১৯৬ জনে।
ছবি: সিডিসি
২৪ ঘণ্টার চিত্র
সাতজন মৃত শিশুর সবগুলোকেই সন্দেহভাজন হামের মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন মৃত্যু বেড়ে দাঁড়াল ১ হাজার ৯২ জনে; নিশ্চিত হামের মৃত্যু আগের ১০৪ জনেই রয়েছে। একই ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১ হাজার ২৫৪ জনের হামের মতো উপসর্গ ধরা পড়েছে, এতে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ছুঁয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪। আর ল্যাবরেটরিতে নতুন ৬৫ জনের হাম নিশ্চিত হওয়ায় মোট নিশ্চিত সংক্রমণ দাঁড়াল ২৩ হাজার ১২২ জনে।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান
ডিজিএইচএসের হিসাবে, ১৫ মার্চের পর থেকে সারা দেশে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
এপ্রিলে ইউনিসেফের মাধ্যমে ভ্যাকসিন কেনা ফের শুরু করলেও জরুরি টিকাদান অভিযান দিয়ে প্রাদুর্ভাব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নাও হতে পারে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ডিজিএইচএসের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক বেনজীর আহমেদের ভাষায়, সংক্রমণের গতি দেখে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা কম। তাঁর মতে, অতীতের টিকাদানে ঘাটতি এবং হাসপাতাল ও রোগী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হুসেনের বক্তব্য, টিকা নেওয়ার পর শিশুদের শরীরে পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠতে সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগে। ফলে সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর এই ধারা আরও অন্তত এক মাস অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: আইএএনএস