টোকিও, ১৮ অক্টোবর: যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার গত সপ্তাহে টোকিওতে বৈঠক করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর জেনারেলদের এড়িয়ে চলা ওয়াশিংটন গত এক মাসে দ্বিতীয়বার তাদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসল—এবার রেয়ার-আর্থ খনিজ ও স্ক্যাম সেন্টার বন্ধের মতো বাস্তব বিষয় নিয়ে।
রয়টার্সকে তিনজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই বৈঠকের কথা জানান। তাদের একজন মার্কিন কর্মকর্তাও ছিলেন। সংবেদনশীলতার কারণে সবাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।
নেতৃত্বে মাইকেল ভ্যান্স
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গোয়েন্দা ও গবেষণা বিষয়ক সহকারী সচিব মাইকেল ভ্যান্স আবারও টোকিও বৈঠকে নেতৃত্ব দেন; এক ডজনের বেশি মার্কিন কর্মকর্তা এতে অংশ নেন। মিয়ানমারের পক্ষে কে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি।
এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নেপিদোতে হওয়া বৈঠকে একজন মার্কিন ব্যবসায়ীর মুক্তি ও আমেরিকানদের লক্ষ্য করে প্রতারণা চালানো স্ক্যাম সেন্টার বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। রয়টার্স আগেই জানিয়েছিল, এই আলোচনা মিয়ানমারের রেয়ার-আর্থ খনিজ ভান্ডার নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে।
স্ক্যাম হাব ও রেয়ার আর্থ
মার্কিন তৎপরতার বড় লক্ষ্য মিয়ানমারের সহায়তায় স্ক্যাম হাবগুলো বন্ধ করা। গবেষকদের মতে, এসব প্রতারণা কেন্দ্রের অনেকগুলো সেনা-সমর্থিত মিলিশিয়ার নিয়ন্ত্রিত এলাকায়, আর অর্থের একটি অংশ সামরিক বাহিনীর কাছে যায়—ফলে সামরিক নেতারা প্রয়োগে কতটা আন্তরিক, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা মিয়ানমারের ভারী রেয়ার-আর্থের বিশাল মজুত নিয়েও আলোচনা করেছেন, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে বায়ু টারবাইন—সবকিছুতেই ব্যবহৃত হয়। তবে বাধা আছে: মজুতগুলোর বড় অংশ সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায়, আর চীন—মিয়ানমারের রেয়ার-আর্থের প্রধান ক্রেতা—মার্কিন ভূমিকা মেনে নাও নিতে পারে।
লোই ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পরিচালক হান্টার মার্স্টন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারকে দেখছে "নিখাদ লেনদেনমূলক দৃষ্টিকোণ" থেকে—মিয়ানমারের হাতে থাকা খনিজই ওয়াশিংটনের প্রধান কৌশলগত আগ্রহ।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা, রয়টার্স