মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা নদীতে চালানো এক অভিযানের সময় সংসদ সদস্যের নেতৃত্বাধীন দলের ওপর হামলা চালিয়েছে একদল জেলে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযানকারী দল ৪১ জন জেলেকে আটক করেছে এবং প্রায় দুই লাখ মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে।
ছবি: প্রথম আলো
ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর কলিকাল চরে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্বে বিলাসপুর ইউনিয়নের শাফি কাজী মোড় এলাকা থেকে পালেরচরের দিকে ভোরের আগেই অভিযান শুরু হয়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে এই অভিযান।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দলটি কলিকাল চরে পৌঁছালে শতাধিক জেলে একত্রিত হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা হামলাকারীদের ধাওয়া করে নদীর চরের একাংশ ঘিরে ফেলেন। আহতদের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিবন্ধিত জেলে নয়, দাবি সংসদ সদস্যের
সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা মা ইলিশ ধরছে, তারা নিবন্ধিত জেলে নয়—এমন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, অবৈধ ইলিশ শিকার ও বাণিজ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং মা ইলিশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য বলছে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে, যা ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই সময়ে ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুদ—সবই নিষিদ্ধ। তবু জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে মা ইলিশ ধরা হচ্ছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জেলার অন্তত ২৫টি নদীতীরবর্তী স্থানে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
১০ দিনে ২০ অভিযানে কারাদণ্ড ৭২ জেলের
মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, গত ১০ দিনে ২০টি অভিযান চালিয়ে নানা মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৭২ জন জেলেকে। শরীয়তপুরে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩৩ হাজার, যাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৯২৯ জন ইলিশ ধরা ও বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের প্রত্যেককে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।