ঢাকা, ১৫ অক্টোবর: দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য এই আহ্বান জানানো হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে সেভ দ্য চিলড্রেনের 'সুরক্ষা' প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এনজিওগুলোর কার্যক্রমে প্রায়ই কাজের পুনরাবৃত্তি ও সমন্বয়হীনতা দেখা যায়; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম কার্যকর করতে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সুরক্ষা প্রকল্প: ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের লক্ষ্য
২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৮ সালের মে পর্যন্ত চলবে সুরক্ষা প্রকল্প। এর আওতায় চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির নির্বাচিত এলাকায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও পূর্বানুমানভিত্তিক পদক্ষেপ জোরদার করা হবে। ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাতের মতো পুনরাবৃত্ত হুমকির মুখে রয়েছে এ অঞ্চল; এসব দুর্যোগে ঘরবাড়ি-ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্থানীয়দের জীবিকা হুমকিতে পড়ে।
সেভ দ্য চিলড্রেনের রেজিলিয়েন্স ও অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগের ব্যবস্থাপক ফাতেমা মেহেরনেসা জানান, আগের ধাপে ৪০ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো গিয়েছিল; এবার লক্ষ্য দেড় লাখ মানুষ। তিনি জানান, ১০০টি পরিবারের ওপর চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, দুর্যোগের সতর্কবার্তা পাওয়া ৮১.১ শতাংশ মানুষই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছিলেন এবং ৮০.৫ শতাংশ এক থেকে তিন দিন আগেই সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। তবে দুর্যোগের সময় ৪৪.৮ শতাংশ মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্কে গুরুতর ব্যাঘাতের কথা জানিয়েছেন — যা কার্যকর আগাম সতর্কতার বড় বাধা।
প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমাধান
অনুষ্ঠানে আবহাওয়াবিদ কামরুল হাসান পার্বত্য চট্টগ্রামে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সমাপনী পর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে আদিবাসী জ্ঞান ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের সমন্বয়ে প্রকৃতিনির্ভর সমাধান গ্রহণ করতে হবে।
তার ভাষায়, কেবল কৃত্রিম কাঠামোর ওপর নির্ভর না করে প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে টেকসই পন্থা অবলম্বনই জনগোষ্ঠীকে রক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে সহায়ক হবে। অন্য বক্তারা আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও দুর্যোগ প্রস্তুতির উন্নতির কথা তুলে ধরে স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন, যাতে জলবায়ু-সম্পর্কিত ক্ষতি কমানো যায়।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা