ঢাকা, ১৭ অক্টোবর: মিসর ম্যাচে সমর্থকদের ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের ঘটনায় ফিফার আরোপ করা শাস্তির বিরুদ্ধে ক্রীড়া সালিশি আদালতে (সিএএস) যাচ্ছে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। ফিফার অভ্যন্তরীণ আপিল খারিজ হওয়ার পর তারা ক্রীড়া-বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ এই সংস্থার দ্বারস্থ হচ্ছে।
বার্সেলোনার কাছে আরসিডিই স্টেডিয়ামে মার্চে মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে (গোলশূন্য ড্র) কিছু স্পেন সমর্থক 'তুমি না লাফালে তুমি মুসলিম' স্লোগান দেন। দ্বিতীয়বার স্লোগান ওঠার পর স্টেডিয়ামের ঘোষক সতর্ক করেন এবং স্কোরবোর্ডে বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে বার্তা দেখানো হয়।
লামিন ইয়ামালের নিন্দা
মুসলিম ধর্মাবলম্বী স্পেনের উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল ঘটনার সময় স্লোগানের নিন্দা জানিয়ে এগুলোকে অসম্মানজনক ও অসহনীয় বলে বর্ণনা করেন; দায়ীদের 'অজ্ঞ ও বর্ণবাদী' বলেন তিনি। পরদিন স্পেনের পুলিশ তদন্ত শুরু করে; পরে ফিফাও আরএফইএফের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করে।
শাস্তি: জরিমানা ও আসন বন্ধ
ফিফা ফেডারেশনকে ২০ হাজার ডলার জরিমানা করে এবং স্পেনের পরের ঘরের প্রীতি ম্যাচে অন্তত ১৫ শতাংশ আসন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। আরএফইএফের যুক্তি ছিল, 'মুসলিম' শব্দটি 'অপমানজনক বা অবমাননাকর নয়'; তাই ভক্তদের আচরণ ফিফার অনুচ্ছেদ-১৫ (বৈষম্য ও বর্ণবাদী অপব্যবহার) নয়, বরং অনুচ্ছেদ-১৭ (রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বার্তা)-এর আওতায় মূল্যায়ন করা উচিত।
কিন্তু ফিফার শাস্তিমূলক কমিটি এই যুক্তি খারিজ করে বলে, অনুচ্ছেদ-১৫ প্রয়োগে সরাসরি গালির ব্যবহার আবশ্যক নয়; কোনো শব্দ প্রসঙ্গ অনুযায়ী 'অপমান, উপহাস বা হীনতার চিহ্ন' হিসেবে ব্যবহৃত হলেই তা বৈষম্যমূলক হতে পারে।
সিএএসে যাওয়ার ঘোষণা
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আরএফইএফ আপিল করেছিল; ফিফার এক মুখপাত্র গত সপ্তাহে তা খারিজ হওয়ার কথা জানান। এরপরই স্পেনীয় ফেডারেশন সিএএসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফেডারেশনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনা জানার মুহূর্ত থেকে তারা 'তাৎক্ষণিক, যত্নশীল ও কার্যকরভাবে' ব্যবস্থা নিয়েছে; নেওয়া পদক্ষেপে স্লোগানের পুনরাবৃত্তি হয়নি এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরাই এমন আচরণের প্রতি তাদের অসম্মতি প্রকাশ করেছেন।
কর্মকর্তার দাবি, শাস্তি অতিরিক্ত কঠোর — আরও গুরুতর বা আগের শাস্তিমূলক অপরাধ-সংশ্লিষ্ট মামলায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন ধারণক্ষমতা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। তিনি আরও জানান, ফেডারেশনের নজরদারি ব্যবস্থাই স্লোগান শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাচ কর্মকর্তাদের জানায়; আক্রান্ত অংশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং দায়ীদের শনাক্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয়।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা, রয়টার্স