সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ আবিয়েই অঞ্চলের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
আবিয়েই জেলার কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার জানায়, সোমবার আমিয়েত বাজারে এই হামলা চালানো হয়। হামলার জন্য তারা সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় ২২টি গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নারী, শিশু, বয়স্ক, স্থানীয় ব্যবসায়ী, ঙ্গোক ডিঙ্কা সম্প্রদায়ের সদস্য, দক্ষিণ সুদানি প্রত্যাবর্তনকারী এবং আঞ্চলিক সংঘাত থেকে আশ্রয় নেওয়া সুদানি শরণার্থী। বাজারটি আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পণ্য পরিবহনের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
জুবার কড়া প্রতিক্রিয়া
হামলার পর দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। জুবা এই হামলার "যথাসম্ভব কঠোর ভাষায়" নিন্দা জানিয়েছে।
দক্ষিণ সুদানের অভিযোগ, সুদানি সেনাবাহিনী বাজারের একাধিক স্থানে আঘাত হেনেছে। সুদানের সেনাবাহিনী এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
আবিয়েই সুদান ও দক্ষিণ সুদান উভয়ের দাবিকৃত অঞ্চল। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই জেলার মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছে। জেলার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করে সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্থ (এসপিএলএম-এন)।
রবি ও সোমবার সুদানজুড়ে ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল পশ্চিম কর্দোফানের আল-দিবাব শহরের কাছে রবিবার সন্ধ্যার হামলা। বাসিন্দা ও চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে জানা গেছে, বাজারের দিন শেষে বাড়ি ফেরার গাড়ির অপেক্ষায় জড়ো হওয়া মানুষের ওপর ড্রোন আঘাত হানলে ৮০ জন নিহত হন।
দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালায় সোমবার ভোরে আরেক ড্রোন হামলায় সাতজন আরএসএফ কর্মকর্তাসহ ১৭ জন নিহত হন। রাজধানী খার্তুমে সোমবারের হামলায় প্রাণ হারায় দুই, চার ও ছয় বছর বয়সী তিন শিশু। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক সোমবার এই হামলাগুলোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, বেসামরিক নাগরিক, এমনকি শিশুরা নিহত হচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগের।
সূত্র: আরব নিউজ