ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: পিস্তল হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ায় আলোচনায় আসা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
যা জানালেন ডিবিপ্রধান
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি মূল্যায়নের জন্য এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। সংশ্লিষ্ট উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবেন। সেই প্রতিবেদনে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ডিএমপি আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
অভিযানে একজন প্রতিমন্ত্রী পুলিশের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না — এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
যা ঘটেছিল শনিবার
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে এক হাতে হ্যান্ড মাইক্রোফোন ও অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে একদল লোককে তাড়া করছেন তিনি। একপর্যায়ে পিস্তলের স্লাইড টেনে গুলি করার প্রস্তুতি নিয়ে লোকগুলোর দিকে অস্ত্র তাক করে ‘অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাঁকে। ভিডিওতে সাদা পোশাকে থাকা আরও একজনকে অস্ত্র হাতে লোকজনকে তাড়া করতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থল ছিল রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান। অভিযানে ৬ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আটকদের কাছ থেকে কিছু পাউডার পাওয়া গেছে, পরীক্ষা করে দেখা হবে সেটি মাদক কি না। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা জানান, অভিযানের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আগে পুলিশকে জানাননি; পুলিশ পরে জানতে পেরেছে।
ইশরাকের ব্যাখ্যা
ইশরাক হোসেন ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটায় নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি অস্ত্রটি সঙ্গে রেখেছিলেন। তাঁর দাবি, অভিযানে তাঁর সঙ্গে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় ছোট ছোট অস্থায়ী ঝুপড়ি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা হচ্ছিল বলে তিনি জানান; গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর সেখানে অভিযান চালিয়ে ঝুপড়িগুলো ভেঙে দেওয়া হয়।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে তাঁর ফেসবুক পেজের আরেকটি পোস্টে ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক ছাড় দেওয়া হবে না; এমনকি নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তাঁর শাস্তি আরও কঠোর হবে। এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিলে পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সূত্র: পিটিআই