বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর রেফারির সমালোচনা করায় মিসরের কোচ হোসাম হাসানকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। একই ঘটনায় ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোকে পাঁচ ম্যাচ ও দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) গতকাল এই খবর জানায়।
ছবি: দ্য ডেলটা লেন্স
ষাট বছর বয়সী হোসাম হাসান হারের পর সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, "মাঠের ভেতরে কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরে কিছু বিষয় ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করেছে। হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।"
"বাস্তব জীবন অন্যায্য হতে পারে, কিন্তু খেলাধুলায়ও কেন ন্যায্যতা থাকবে না?", যোগ করেন তিনি। রেফারির ভুলকে বিদায়ের কারণ হিসেবে দায়ী করাতেই এই শাস্তি।
যে ম্যাচ নিয়ে ক্ষোভ
৭৭ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। এরপর ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, ৮৩ মিনিটে লিওনেল মেসি ও যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ গোলে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা।
২-২ গোলে সমতার সময় শেষ দিকে মিসরের পেনাল্টির আবেদন নাকচ হয়। তার আগে 'বিল্ড আপে' ফাউলের অভিযোগে জিকোর একটি গোল বাতিল করা হয়েছিল। ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে নিয়ে কটূক্তির জন্য শাস্তি পেয়েছেন জিকো। কোচ হোসামের যমজ ভাই ও দলের পরিচালক ইব্রাহিমকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে একই কারণে।
ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা রেফারি লেতেক্সিয়েরের পক্ষ নিয়ে বলেছিলেন, এ ধরনের অভিযোগ রেফারি ও তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকির কারণ হতে পারে।
কতটা ভুগবে মিসর
আগামী নভেম্বরে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হোসাম ও ইব্রাহিমকে পাচ্ছে না মিসর। মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতির প্রথম ম্যাচেও থাকবেন না তাঁরা। জিকোকে জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হবে আগামী জুন পর্যন্ত।
ইএফএর বিবৃতিতে জানানো হয়, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে শাস্তির বিস্তারিত কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে; আপিলের আইনি দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।