যুক্তরাজ্যে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেছেন ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক। মঙ্গলবার উইন্ডসর ক্যাসলে তাকে বরণ করবেন রাজা তৃতীয় চার্লস।
ছবি: ডেইলি ওয়াদা
১৯৮২ সালের মার্চে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সুলতান কাবুসকে আতিথ্য দেওয়ার পর এই প্রথম কোনো ওমানি শাসকের রাষ্ট্রীয় সফর এটি। ৪৪ বছরের মধ্যে এমন আয়োজন হয়নি।
সোমবার স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে অবতরণ করেন সুলতান হাইথাম। মঙ্গলবার রাজকীয় বন্দুকের স্যালুট, উইন্ডসর শহরের মধ্য দিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে শোভাযাত্রা এবং সন্ধ্যায় জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন থাকছে। বুধবার তিনি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে ডাউনিং স্ট্রিটে বৈঠক করবেন এবং লন্ডনে ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন।
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব
পারস্য উপসাগরকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্তকারী হরমুজ প্রণালির পশ্চিম তীরে ওমানের অবস্থান। তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে প্রবাহ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় ওমানের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করছে ওমান। শান্তিচুক্তির মধ্যস্থতায় কাজ করলেও ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ওমানকে লক্ষ্য করেছে বলে খবরে বলা হয়েছে। গত আগস্টে ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে চুক্তির কথা জানানোর পর ট্রাম্প ওমানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
দুই শতাব্দীর সম্পর্ক
১৯৫১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ওমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে ব্রিটেন। ওমানি বিমানবাহিনীতে এখনো রয়্যাল এয়ার ফোর্সের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। আরব সাগর তীরবর্তী দুকমে ব্রিটিশ নৌঘাঁটি পারস্য উপসাগরজুড়ে যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানকে সহায়তা করে।
সোমবার টেলিফোনে আলাপে সুলতান প্রধানমন্ত্রী বার্নহামকে প্রণালির পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। পাকিস্তানে সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা নিয়েও কথা বলেন দুই নেতা। ওমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন বার্নহাম।