ঢাকা, ১৬ অক্টোবর: জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর — এই তিন মাসে দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১৬ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে এবং এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এমন দাবিকে 'বিভ্রান্তিকর' বলে উড়িয়ে দিয়েছে সরকারি তথ্য যাচাইকারী সংস্থা বাংলাফ্যাক্ট।
সংস্থাটি বলেছে, জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর যাচাই করে তারা তিন মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১৬ জন সদস্যের হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রমাণ পায়নি। এ ছাড়া কোনো ঘটনাকে 'সাম্প্রদায়িক হত্যা' বলার আগে উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছে তারা। বাংলাফ্যাক্টের ভাষায়, সাম্প্রদায়িক হত্যার মূল শর্ত হলো উদ্দেশ্য — ভুক্তভোগীকে তার ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের কারণেই হত্যা করা হয়েছে কি না।
রংপুরের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড
বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে হিসাব শুরু করলে তিন মাসে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনা ছিল রংপুরে একই রাতে একই পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ড। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যে পুলিশ দুই তরুণ প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করে, যাদের নাম মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস — দুজনেই হিন্দু সম্প্রদায়ের। জাতীয় গণমাধ্যমের বরাতে সংস্থাটি জানায়, ভুক্তভোগীদের একজন দুজনকে ছাদে ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলার পরই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে; তদন্ত এখনো চলছে। তবে ঐক্য পরিষদও ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো প্রমাণ দেয়নি, কেবল দাবি করেছে 'স্বার্থান্বেষী মহল' এ হত্যা ঘটিয়েছে। বাংলাফ্যাক্টের মন্তব্য, স্বার্থের সংঘাত আর সাম্প্রদায়িক ঘৃণা এক জিনিস নয়।
ময়মনসিংহ ও খাগড়াছড়ির ঘটনা
২৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় মিলেছে নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর নামে এক স্বর্ণকারের। গোপনে ধারণ করা ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইল বিরোধের জেরে তাকে ধারালো অস্ত্রে খুন করা হয়। চার দিন পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শামীম মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। বাংলাফ্যাক্টের বক্তব্য, এখানে ধর্মের কোনো ভূমিকা ছিল না।
গত ৬ জুলাই খাগড়াছড়িতে তিন চাকমা যুবককে গুলি করে হত্যা করা হলেও পুলিশ বলছে, পাহাড়ি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বন্দ্বই এর কারণ। সংস্থাটির ভাষ্য, পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আধিপত্যের লড়াই দশকের পর দশক ধরে চলছে — ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত দুই পক্ষই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর; একে সংখ্যাগরিষ্ঠের দ্বারা সংখ্যালঘু নির্যাতন বলার কোনো ভিত্তি নেই।
গ্রেপ্তারের দাবি ভুল
'কোনো গ্রেপ্তার হয়নি' — ঐক্য পরিষদের এই দাবিও সঠিক নয় বলে জানিয়েছে বাংলাফ্যাক্ট। রংপুরের ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন; ময়মনসিংহের মূল আসামিকেও পিবিআই গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া তিন মাসে সংখ্যালঘুদের আরও কয়েকটি মরদেহ উদ্ধারের খবর প্রচারিত হলেও একটিতে অস্বাভাবিক মৃত্যু ও আরেকটিতে আত্মহত্যা শনাক্ত হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। এগুলোকে 'হত্যা' হিসেবে গণনা করলে হিসাব আরও বিকৃত হবে। উল্লেখ্য, বুধবার ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন; বাংলাফ্যাক্ট বলছে, ওই মন্তব্য পরিষদের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই এসেছে।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা