শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে সারা দেশের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে মঙ্গলবার সকালে তিনি রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপর সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে পাগলাপীরে সড়কের দুই পাশে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত পথসভা করেন তিনি।
সেখানেই মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে চাই। আপনারা কি আমার সঙ্গে আছেন?" এ সময় উপস্থিত জনতা হাত উঁচিয়ে সমর্থন জানায়।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গঠনের পর থেকেই খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। চালু হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পর রাজশাহী ও চট্টগ্রামের মণ্ডপও ঘুরে দেখার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা। এর আগে সকালে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে মহাখালী ও বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি।
সরকার এবার দুর্গাপূজার অনুদান চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করেছে। গত ৭ অক্টোবর হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চার কোটির চাহিদার বিপরীতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনে বাড়তি অর্থের চেক হস্তান্তর করা হয়। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান উৎসবের জন্য দেওয়া হয় তিন কোটি টাকা।
২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটির সঙ্গে ২৩-২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এবার টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা। প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। ধর্ম নির্বিশেষে নিরাপত্তার অধিকার সবার।
সূত্র: দ্য হিন্দু