সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি রাষ্ট্রপতির প্রতি বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে বিষয়টির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আলেম-ওলামা ও সাধারণ মুসলমানরা প্রতিবাদে সোচ্চার হতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হেফাজত নেতারা।
ছবি: ঢাকা পোস্ট
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।
যে বক্তব্য নিয়ে আপত্তি
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ওই অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। হেফাজত নেতাদের ভাষ্যে, বক্তব্যে কোনো দেব-দেবীকে সমগ্র পৃথিবীর ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ইসলামের আকিদা অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, এমন বক্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বক্তব্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে ধর্মীয় বিষয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অসতর্ক মন্তব্য জনপরিসরে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করেন তারা।
রমনা কালী মন্দিরে রাষ্ট্রপতির সফর
এর আগে গত রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে ঢাকার রমনা কালী মন্দির পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি বলেন, অন্যায়-অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সেগুলোকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের আর কোথাও নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে এ মন্দির ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছিল এবং ১৯৭৩ সালে তা ধ্বংস করা হয়। পরে ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে মন্দিরটি পুনঃস্থাপিত হয়। এ সময় তিনি খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পণা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য।
সম্প্রীতি রক্ষার পক্ষে হেফাজত
বিবৃতিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন হেফাজত নেতারা। তাদের বক্তব্য, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী আচার-অনুষ্ঠান পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং ইসলামও অন্য ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়। তবে অন্যের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানাতে গিয়ে নিজ ধর্মের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয় বলে মনে করেন তারা।
নেতৃদ্বয় বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখাই প্রকৃত ধর্মীয় সম্প্রীতির ভিত্তি।