বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার পাঁচ মাস পরও এর এক-পঞ্চমাংশেরও কম অর্থ ঋণগ্রহীতাদের কাছে পৌঁছেছে। রোববার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ছবি: ডেইলি ওয়াদা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে, আর ২ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফলে বিতরণ ও প্রক্রিয়াধীন মিলিয়ে মোট অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা—যা মোট বরাদ্দের মাত্র ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ।
বড় বরাদ্দ, কম ব্যয়
সবচেয়ে বড় উপাদানটি ছিল বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরুজ্জীবনের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এতে বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা—বরাদ্দের ২ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কৃষি ও গ্রামীণ খাদ্য নিরাপত্তা খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বিতরণ হয়েছে মাত্র ২৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা (২ দশমিক ৯৩ শতাংশ)। উত্তরবঙ্গের কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্রের ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ছাড় হয়েছে মাত্র ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
কিছু খাতে ভালো অগ্রগতি
সব খাতের চিত্র অবশ্য এক নয়। রপ্তানিপূর্ব ঋণ পুনঃঅর্থায়ন খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা—লক্ষ্যমাত্রার ৩৮ শতাংশ বেশি। কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। সিএমএসএমই কার্যকরী মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ৯০৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ছাড় হয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের ৫০০ কোটি টাকা পুরোটাই বিতরণ হয়েছে।
উল্লেখ্য, মে মাসে ঘোষিত এই প্যাকেজটি বন্ধ শিল্প পুনরায় চালু, সিএমএসএমই খাতে অর্থায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, কৃষি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে ১৫টি বিশেষায়িত স্কিম নিয়ে গঠিত। তবে উচ্চ ঋণ ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল রয়েছে—আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে।