দীর্ঘ ১৩ বছরের বিলম্ব আর ব্যয়বৃদ্ধির পর গাজীপুর থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের স্টেশন ও লেন বিভাজক সরিয়ে সড়কটিকে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে।
ছবি: দ্য ডেলটা লেন্স
১৮ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। পরদিন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হবে; এর কার্যক্রম যাবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায়।
বিআরটি শাখার উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলির সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, স্টেশন ও লেন বিভাজক সরিয়ে দুই দিকে তিনটি করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়ক করা সমীচীন। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি দুই লেনের ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রমও নেওয়া যেতে পারে।
যে প্রকল্প শেষই হলো না
গাজীপুরের শিববাড়ি থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১২ সালের নভেম্বরে। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, ২০১৬ সালের মধ্যে কাজ শেষের লক্ষ্য ছিল।
কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা পরিবর্তন ও সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তরসহ নানা জটিলতায় গতির চাকা আটকে যায়। ২০১৮ সালে মাঠপর্যায়ে বড় পরিসরে নির্মাণ শুরু হলেও দীর্ঘসূত্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকায়, প্রাথমিক ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।
২০২৫ সালে ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা ও মেয়াদ আরও বাড়ানোর প্রস্তাব এলেও ওই বছরের ২৭ জুলাই একনেক তা অনুমোদন করেনি।
যানজট আর ভোগান্তির শেষ?
নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর, টঙ্গী ও বিমানবন্দর এলাকার সড়কে দীর্ঘদিন যানজট ও জনভোগান্তি ছিল। যে দ্রুত গণপরিবহন গড়ার লক্ষ্যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তা পুরোপুরি চালুই করা যায়নি।
এখন অবকাঠামো অপসারণ, ওভারপাস সম্প্রসারণ, আইনি জটিলতা নিরসন ও প্রকল্প বন্ধের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে; এরপর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে।